পয়লা বৈশাখকে সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে ইলিশ ও অন্যান্য বড় মাছ এবং মাংসের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সোনালী মুরগির দাম আগের মতোই চড়া ও অপরিবর্তিত রয়েছে। একইসাথে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে লেয়ার, পাকিস্তানি কক এবং দেশি মুরগিও। এসব মুরগি নূন্যতম ৩৬০ টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রায় ৬০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
পয়লা বৈশাখের উৎসব ঘিরে চাহিদা বাড়ার সুযোগে বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। আর বিক্রেতারা বলছে, ব্রয়লারের দাম কিছুটা কমলেও অন্য মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। একইসাথে বাজারে সরবরাহ কিছুটা কম রয়েছে। তবে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকায় দামে বড় ধরনের ওঠানামা হয়নি। বিশেষ করে ব্রয়লার মুরগির ক্ষেত্রে সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দাম কমেছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
রাজধানীর টাউন হল, ঝিগাতলা, কারওয়ান বাজার, কলাবাগানসহ বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বড় আকারের রুই, কাতলা ও বোয়াল মাছের দাম গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা বেড়েছে। বিশেষ করে ৩ কেজির বেশি ওজনের মাছের চাহিদা বেশি থাকায় এসব মাছের দাম আরও বেশি চড়া। এক একটি ৫ কেজি ওজনের রুই, কাতল কেজি প্রতি ৫০০-৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ মাছের পাশাপাশি, ইলিশের দাম সবচেয়ে বেশি। ১-২ কেজি সাইজের ইলিশ কেজি প্রতি ২৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যান্য মাছের মধ্যে প্রতি কেজি তেলাপিয়া (বড় আকারের) ২২০ থেকে ২৪০ টাকা, কোরাল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, রুই ও কাতল ২৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, বোয়াল ৫০০ থেকে ৭৫০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের পাশাপাশি, ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ১৯০ থেকে ২২০ টাকা,গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খুচরা বাজারে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চাল, আটা, পেঁয়াজ ও ব্রয়লার মুরগিসহ অন্তত ১০টি পণ্যের দাম কমেছে। এর মধ্যে রয়েছে চাল, আটা, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মুরগি ও বেশ কিছু সবজিও।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, বাজারে মোটা চালের (স্বর্ণা/চায়না ইরি) দাম গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি মোটা চাল বাজারে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের পাশাপাশি কমেছে আটার দামও। প্যাকেটজাত আটার দাম কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত কমে এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা ছিল। তবে সরু চাল (নাজিরশাইল বা মিনিকেট) এবং মাঝারি মানের পাইজাম চালের দাম আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে।
রান্নার অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের দামও নিম্নমুখী। দেশি পেঁয়াজ এখন বাজারে ৩০ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে, যা সপ্তাহের ব্যবধানে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। এ ছাড়া আমদানিকৃত রসুন ৯ শতাংশ এবং আদার দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। তবে সবজির বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে কাঁচামরিচের। গত সপ্তাহে ১৬০ টাকা পর্যন্ত ওঠা কাঁচামরিচ এখন বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। পাশাপাশি লেবুর দাম হালিপ্রতি ৫ শতাংশ এবং বেগুনের দাম প্রায় ২৯ শতাংশ কমেছে।
টিসিবি বলছে, ডালের বাজারে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা। ছোট দানার মশুর ডালের দাম ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমলেও বড় দানার মশুর ডালের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে বড় দানার মশুর ডাল ৯০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্যতেলের বাজারে লুজ সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম গত এক মাসের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকলেও গত সাত দিনে তা নতুন করে আর বাড়েনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









