ইরানে গত শুক্রবার ভূপাতিত দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের একটির নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে অভিযান এখনো শেষ হয়নি। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছে, ইরানে রাতে ভূপাতিত এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ এক ক্রু সদস্যকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে এ সময় তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই ক্রু সদস্য এখনো ইরানের ভেতরেই অবস্থান করছেন। চলমান সংঘাতের কারণে তার এবং উদ্ধার অভিযানে জড়িত অন্যদের জন্য এখনো ঝুঁকি রয়েছে। এটি এখনো একটি চলমান ও সক্রিয় উদ্ধার অভিযান। ওই বিমানকর্মী এখনো ইরানের বাইরে আসতে পারেননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েল যখন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, তখনই এ খবর এল। নতুন চুক্তি করতে অথবা হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যথায় দেশটিকে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতির’ মুখোমুখি করার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে দুই মার্কিন কর্মকর্তা ওই বৈমানিক সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরান বলেছে, শুক্রবার তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়। বিমানে দুজন ক্রু ছিলেন। উদ্ধার হওয়া বৈমানিক তাঁদেরই একজন। এর আগে বিমানের প্রথম ক্রুকে উদ্ধারের খবর জানিয়েছিল রয়টার্স। একই দিন আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার কথা জানায় তেহরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প নানা ধরনের মিশ্র বার্তা দিয়ে আসছেন। কখনো তিনি কূটনৈতিক অগ্রগতির আভাস দিচ্ছেন, আবার কখনো ইরানকে বোমা মেরে ‘পাথর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, তার দাবি পূরণ না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে। এবার তিনি তেহরানকে মনে করিয়ে দিলেন যে, যুদ্ধ বন্ধে চুক্তির সময়সীমা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘মনে আছে, আমি ইরানকে চুক্তি করার জন্য অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম? সময় শেষ হয়ে আসছে—আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের ওপর চরম বিপর্যয় নেমে আসবে।’
ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় এ যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। চলমান এ যুদ্ধে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









