জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) স্নাতকে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ চার শিক্ষাবর্ষের মোট ১০৪ জন শিক্ষার্থী ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’-এর জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, স্নাতক (সম্মান) ২০১৬-২০১৭, ২০১৭-২০১৮, ২০১-২০১৯ এবং ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের চার বছর মেয়াদি চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অনুষদভিত্তিক সর্বোচ্চ মেধাবীদের এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
আগামী ১৭ জুন বুধবার সকাল ১০:০০ টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মনোনীত শিক্ষার্থীদের হাতে এই অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর নিকট থেকে অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন এবং একাডেমিক শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোল্লা মেজবাহ উদ্দীন দারাঈন এই বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস অ্যাওয়ার্ড নীতিমালা অনুযায়ী অত্যন্ত কঠোর ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে এই মেধাবীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নিজ নিজ অনুষদের আওতাধীন প্রতিটি বিভাগ থেকে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী একজন শিক্ষার্থীকে এই সম্মাননার জন্য চূড়ান্তভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করা এবং শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ পুরস্কারের প্রবর্তন করা হয়েছে। এই সম্মাননা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী কর্মজীবনে যেমন এগিয়ে রাখবে, ঠিক তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষের ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে।
প্রকাশিত ফলাফল ও তথ্য মতে, প্রথম দুটি শিক্ষাবর্ষ অর্থাৎ ২০১৬-২০১৭ এবং ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রতিটিতে ২৫ জন করে মোট ৫০ জন শিক্ষার্থী মনোনীত হয়েছেন। এর মধ্যে কলা অনুষদ, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, আইন অনুষদ, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদ এবং চারুকলা অনুষদের মেধাবীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের কলা অনুষদে ৪ জন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে ৪ জন, বিজ্ঞান অনুষদে ৩ জন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ৪ জন, আইন অনুষদে ১ জন, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদে ৭ জন এবং চারুকলা অনুষদ থেকে ১ জন মনোনীত হয়েছেন। অন্যদিকে ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে কলা অনুষদ থেকে মনোনীত হয়েছেন ৫ জন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে ৪ জন, বিজ্ঞান অনুষদে ৩ জন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ৪ জন, আইন অনুষদে ১ জন, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদে ৭ জন এবং চারুকলা অনুষদ থেকে ১ জন শিক্ষার্থী এই গৌরব অর্জন করেছেন।পরবর্তী দুটি শিক্ষাবর্ষের মধ্যে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ২৬ জন এবং ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ ২৮ জন শিক্ষার্থী এই সম্মাননার জন্য মনোনীত হয়েছেন।
বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে কলা অনুষদ থেকে ৬ জন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ থেকে ৪ জন, বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ৪ জন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ৪ জন, আইন অনুষদ থেকে ১ জন, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদ থেকে ৭ জন এবং চারুকলা অনুষদ থেকে ১ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বশেষ ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে কলা অনুষদ থেকে ৬ জন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ থেকে ৪ জন, বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ৫ জন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ৫ জন এবং লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদ থেকে ৭ জন শিক্ষার্থীকে মনোনীত করা হয়েছে।
এবারের মনোনীত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অ্যাকাডেমিক ফলাফলের দিক থেকে এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল কীর্তি স্থাপন করেছেন ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের অণুজীববিজ্ঞান তথা মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী আভা রহমান।
তিনি তাঁর স্নাতক শিক্ষাজীবনে ৪.০০ এর মধ্যে নিখুঁত ৪.০০ সিজিপিএ অর্জন করে ডিনস অ্যাওয়ার্ডের তালিকায় শীর্ষস্থান অধিকার করেছেন, যা পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অত্যন্ত গৌরবময় দৃষ্টান্ত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে, আভা রহমানের এই অনন্য সাধারণ সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সকল নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও বেশি মনোযোগী হতে এবং ভবিষ্যতে নিজেদের মেধার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটাতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









