উপস্থিতির হার কম থাকায় পরীক্ষায় বসার সুযোগবঞ্চিত ১১ শিক্ষার্থীকে বিশেষ বিবেচনায় সুযোগ দেওয়ার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিভাগের সামনে তালা দিয়ে তারা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। আন্দোলনের কারণে এদিন নির্ধারিত পরীক্ষা শুরু করা যায়নি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লাসে উপস্থিতি ৬০ শতাংশের কম হওয়ার অভিযোগে ১১ জন শিক্ষার্থীকে চলমান পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, উপস্থিতির এই সংকটের পেছনে বিভাগের একাডেমিক ও প্রশাসনিক জটিলতাও দায়ী। তাই মানবিক কারণে তাদের পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া উচিত।
এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলমান সেশনজট এবং ফল প্রকাশে ধীরগতির স্থায়ী সমাধানের দাবিও জানান শিক্ষার্থীরা।
বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান পাপন বলেন, "২০২০ সালের জানুয়ারিতে আমাদের সেশন শুরু হলেও সেশনজটের কারণে অনার্স শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। এরপর পাঁচ মাস পার হলেও মাস্টার্সের কোনো ক্লাস বা পরীক্ষার রুটিন দেওয়া হয়নি। বিভাগীয় প্রশাসন বলছে কারিকুলাম প্রস্তুত নেই। এতদিনেও কেন কারিকুলাম হলো না, সেটাই আমাদের প্রশ্ন।"
আন্দোলনরত আরেক শিক্ষার্থী খালিদ হাসান বলেন, বঞ্চিত সহপাঠীদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলবে।
যোগাযোগ করা হলে নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী রবিউল আলম বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী যাদের ক্লাসে উপস্থিতি ৬০ শতাংশের কম, তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে না। সেই নিয়ম অনুসারেই তাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি।"
তিনি আরও বলেন, "পরীক্ষা শুরুর আগে অন্য শিক্ষার্থীরা দাবি তোলে, ওই ১১ জনকে সুযোগ না দিলে তারাও পরীক্ষায় বসবে না। আমি তাদের জানিয়েছি, এককভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।"
সেশনজট নিরসনে কার্যকর রূপরেখা প্রণয়ন এবং বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









