প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জুলাই সফলের পর কেউ বাংলাদেশকে ইসলামিক রিপাবলিক করতে চেয়েছেন, কেউ সংবিধান স্থগিত রেখে বিপ্লবী সরকার গঠনের কথা বলেছেন। আবার কেউ নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবি তুলেছেন। কিন্তু আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই কাজ করছি।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের আয়োজনে ‘মননে জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ নিসতার জাহান কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমিন। এ ছাড়া বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, “একটি সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছি আমরা। সরকারের ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে, তবে সেগুলো সংশোধন করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই।”
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “জুলাই একদিনে সংঘটিত হয়নি, আবার আওয়ামী লীগের পতনও একদিনে হয়নি। আমরা যদি সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনের দিকে তাকাই, তাহলে দেখব সরকার পতনের সঙ্গে গৃহযুদ্ধ সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও সরকার পতন হয়েছে, কোথাও দীর্ঘ সংঘাত চলেছে। আবার সব দেশে সরকার পতনও হয় না।”
তিনি কম্বোডিয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, “কম্বোডিয়ায় হুন সেন দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকে ২০২৩ সালে তার ছেলে হুন মানেতের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছেন। শেখ হাসিনাও তার শাসনব্যবস্থা দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিলেন। তিনি ক্ষমতা ছাড়লে ছেলে, মেয়ে কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা নিজেদের মধ্যেই ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি, কারণ বাংলাদেশে বিএনপি নামে একটি রাজনৈতিক দল ছিল, যারা ধারাবাহিকভাবে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই জুলাই কোনো একজন ব্যক্তি বা একদিনের অবদানে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের আর্তনাদ, বৈষম্যের শিকার মানুষের ক্ষোভ, সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্পৃক্ততায় আন্দোলন পূর্ণতা পেয়েছে। জুলাইয়ের একটাই লক্ষ্য ছিল স্বৈরাচারী শাসনের অবসান।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









