জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক নারী। অভিযুক্ত ব্যক্তি শাহাদাত হোসেন বাবু বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক-জব্বার হলের ক্লিনার এবং তার পিতা সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মচারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে অভিযোগকারী মারুফা জানান, অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন (বাবু) তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির (পিয়ন) চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ধাপে ধাপে ১০ লাখ টাকা নেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও চাকরি না হওয়ায় তিনি টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত নানা অজুহাত দিতে থাকেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বড় বড় শিক্ষক ও ছাত্রনেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করে চাকরি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসে বিশ্বাস করেই তিনি টাকা দেন। কিন্তু পরবর্তীতে চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে তিনি টালবাহানা করেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি আরও দাবি করেন, টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত তাকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শারীরিক নির্যাতনের চেষ্টা করেন। এমনকি একপর্যায়ে তাকে শ্লীলতাহানিসহ কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি ধাপে ধাপে বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন নম্বরে একাধিকবার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মারুফা বলেন, ‘‘আমার ফুফাতো ভাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক-জব্বার হলের ক্লিনার হিসেবে কাজ করে। প্রায় এক বছর ধরে চাকরি দেবে, টাকা ফেরত দেবে—এমন আশ্বাস দিয়ে আমাকে ঘুরিয়েছে। কিন্তু এখন আর চাকরিও দিচ্ছে না, টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। এমনকি আমার ফোনও ধরছে না, কোনো কথাও বলছে না।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি ছয়-সাত মাস আগে থেকেই টাকা ফেরত চাইছি। কিন্তু সে শুধু সময়ক্ষেপণ করছে। আমি চাই, হয় আমার টাকা ফেরত দিক, না হয় প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি দিক। টাকা চাইতে গেলে সে আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের চেষ্টা করেছে এবং বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাবও দিয়েছে।’’
মারুফা আরও জানান, অভিযুক্তের বাবা আব্দুল মালেক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গেরুয়া গেট-সংলগ্ন এলাকায় একটি মুদি দোকান পরিচালনা করেন।
তিনি বলেন, ‘‘আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আমার আত্মসাৎ হওয়া টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।’’
তবে অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন বাবুকে একাধিকবার ফোন দিলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মারুফা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান বলেন, “অভিযোগপত্রটি আমরা পেয়েছি এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সেকশনে পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে স্টাফের বিরুদ্ধে এ ধরনের অনৈতিক কাজের অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









