গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) আর্কিটেকচার বিভাগে তীব্র শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা ব্যাহত হওয়া এবং অধিকাংশ ব্যাচ সেশনজটে পড়ার প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে দুপুর ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানকে তাঁর দপ্তরে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। টানা আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তিনি অবরুদ্ধ ছিলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ও সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবরের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। দিনভর আন্দোলন ও বিক্ষোভের পর সন্ধ্যার পরও ভিসি দপ্তরের সামনে তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিভাগটিতে বর্তমানে মাত্র তিনজন শিক্ষক কর্মরত আছেন। এই স্বল্পসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে বিভাগের একাধিক ব্যাচের নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা এবং মূল্যায়নসহ অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের এই স্থবিরতার কারণে শিক্ষার্থীরা সেশনজটের শিকার হচ্ছেন। বিভাগে একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে অবিলম্বে স্থায়ী ও অস্থায়ী ভিত্তিতে মোট ১৬ জন শিক্ষক নিয়োগের লিখিত দাবি জানান তারা।
আন্দোলনের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে উপাচার্যের দপ্তরের সামনে অবস্থান নেন এবং দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরুদ্ধ অবস্থায় দিনভর দফায় দফায় আলোচনা হলেও শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকেন। আন্দোলন চলাকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দীর্ঘ ৮ ঘণ্টারও বেশি সময় পর বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ও গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি উপাচার্যসহ ১০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ইউজিসিতে (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) গিয়ে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন ও অবরুদ্ধ কর্মসূচি স্থগিত করেন।
এ বিষয়ে আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে এলেও শুধু আশ্বাসই পেয়েছি। এই মাসের মধ্যে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ১৬ জন শিক্ষক নিয়োগের লিখিত নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে সরব না।”
নবাগত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, “আমি ভিসি হিসেবে যোগ দিয়েছি মাত্র দুই সপ্তাহ হলো। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিভাগ থেকে এখনো কোনো ব্যাচ পাস করে বের হতে না পারাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম ও শিক্ষক সংকটের বিষয়টি আমি অবগত আছি। ইউজিসির অনুমতি সাপেক্ষে এই মাসের মধ্যেই শিক্ষক নিয়োগের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









