সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

বইমেলা ফেব্রুয়ারিতে নয় ‘ঈদের পর’ চান প্রকাশকরা

প্রকাশিত: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম

বইমেলা ফেব্রুয়ারিতে নয় ‘ঈদের পর’ চান প্রকাশকরা

ফাইল ফটো

জাতীয় নির্বাচনের পরই ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ আয়োজনের সিদ্ধান্তকে বাস্তবতাবিবর্জিত, আত্মঘাতী ও প্রকাশনা শিল্পের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন দেশের ৩২১ জন শীর্ষস্থানীয় প্রকাশক। তাদের দাবি, ঈদের আগে নয়, ঈদের পরে আয়োজন করতে হবে বইমেলা। অন্যথায় এই আয়োজন প্রকাশনা খাতকে আরো গভীর সংকটে ঠেলে দেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে প্রকাশকরা বলেন, বইমেলা কেবল একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়- এটি লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের মিলনমেলা এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ইভেন্ট। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পরপরই রোজার মধ্যে মেলা আয়োজন করলে পাঠকের অংশগ্রহণ কমবে, বিক্রি হবে না, আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন প্রকাশকরা—ফলে মেলার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।

প্রকাশকরা জানান, গত দেড় বছরে দেশের প্রকাশনা শিল্প ভয়াবহ মন্দার মধ্য দিয়ে গেছে। কাগজের মূল্যবৃদ্ধি, বিক্রি কমে যাওয়া এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে বহু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরো একটি সম্ভাব্য ব্যর্থ বইমেলায় অংশ নেওয়া মানে অবশিষ্ট মূলধন হারানোর ঝুঁকি নেওয়া, যা অনেকের পক্ষে অসম্ভব।

বাংলা একাডেমি এপ্রিল মাসে ঝড়-বৃষ্টির ঝুঁকির কথা উল্লেখ করলেও প্রকাশকরা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা সত্ত্বেও ঈদের পরে মেলা আয়োজন করলে তারা ক্ষতির ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। তবে রোজার মধ্যে মেলা আয়োজন করে নিশ্চিত ব্যবসায়িক লোকসানের দায় তারা নিতে পারবেন না।

বিশ্ব সাহিত্য ভবনের প্রকাশক মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘বইমেলা লেখক, পাঠক আর প্রকাশকদের মিলনমেলা, পাশাপাশি দেশের প্রকাশনা শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ইভেন্ট। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পরপরই, রোজার মধ্যে হঠাৎ করে মেলা আয়োজন করলে পাঠকের আগ্রহ কমবে, বই বিক্রি হবে না, আর প্রকাশকেরা বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। এই পরিস্থিতিতে মেলার মূল উদ্দেশ্য—সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া—সম্পূর্ণ ব্যাহত হবে। আমাদের শিল্পকে রক্ষা করতে হলে মেলাকে সময়মতো ও সঠিক প্রেক্ষাপটে আয়োজন করতে হবে।’

বিবৃতিতে প্রকাশকরা অভিযোগ করেন, সরকারের নীতিনির্ধারক মহল প্রকাশনা শিল্পের বাস্তব সংকট ও অংশীজনদের মতামত যথাযথভাবে আমলে নিচ্ছে না। তারা বলেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে নেওয়া আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে একটি সৃজনশীল শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়লে তার দায় রাষ্ট্র কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

প্রকাশকরা আরো জানান, তারা বইমেলার বিরোধিতা করছেন না; বরং মেলাকে সফল, প্রাণবন্ত ও অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর করতে আয়োজক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতায় আগ্রহী। এ বিষয়ে তারা বাংলা একাডেমি, সংস্কৃতি উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার কাছেও আবেদন জানিয়েছেন। তবে অংশীজনদের মতামত উপেক্ষিত হওয়ায় তারা গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন।

এই বিষয়ে অক্ষর বুনন প্রকাশনার স্বত্বাধীকারী মো. আমির হোসেন বলেন, রোজার মাসে ব্যবসায় শতভাগ লস হবে, আর মানবিক দিক দিয়ে বিবেচনা করলে ইফতারের পরে স্টাফদেরকে দিয়ে কিভাবে ডিউটি করাই! 

এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর দানকারী প্যাভিলিয়নগুলো নাম হলো— দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল), অনন্যা, অন্যপ্রকাশ, অনুপম প্রকাশনী, আগামী প্রকাশনী, মাওলা ব্রাদার্স, কাকলী প্রকাশনী, অবসর প্রকাশনা সংস্থা, কথাপ্রকাশ, স্টুডেন্ট ওয়েজ, আফসার ব্রাদার্স, সময় প্রকাশন, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেড, পুথিনিলয়, পাঠক সমাবেশ, বাংলাপ্রকাশ, শোভা প্রকাশ, আদর্শ, শব্দশৈলী, গতিধারা, জ্ঞানকোষ প্রকাশনী, নালন্দা, বাতিঘর, ভাষাচিত্র, মিজান পাবলিশার্স, অনিন্দ্য প্রকাশ, অক্ষর প্রকাশনী, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, অন্যধারা, পার্ল পাবলিকেশন্স, প্রথমা প্রকাশন, কলি প্রকাশনী, আকাশ, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন, প্রিয়মুখ প্রকাশনী।

এক থেকে চার স্টলের নামগুলো হলো— সূচয়নী পাবলিশার্স, বিজ্ঞান একাডেমী, চারুলিপি প্রকাশন, দিব্যপ্রকাশ, দি স্কাই পাবলিকেশন্স, নওরোজ কিতাবিস্তান, প্রচলন, আলেয়া বুক ডিপো, গ্রন্থরাজ্য, অঙ্কুর প্রকাশনী, এশিয়া পাবলিকেশন্স, সহজ প্রকাশ, শাপলা প্রকাশ, স্বরবৃত্ত প্রকাশন, শিখা প্রকাশনী, নবরাগ প্রকাশনী, বঙ্গজ প্রকাশ, গদ্যপদ্য, জয়তী, চিত্রা প্রকাশনী, স্বপ্ন ৭১ প্রকাশন, কথক প্রকাশনী, শুভ বিডি, বাবুই প্রকাশনী, একাত্তর প্রকাশনী, আইডিয়া প্রকাশন, সাহস পাবলিকেশন্স, হুল্লোড়, লেখালেখি, আদর্শলিপি, জলপরি, কারুবাক, মহাকাল, জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ, চিরদিন প্রকাশনী, মুক্তচিন্তা, উজান, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন, দ্বিমিক প্রকাশনী, আলোঘর প্রকাশন, প্রকৃতি, অগ্রদূত, সংবেদ, উৎস প্রকাশ, পানকৌড়ি প্রকাশন, কিশলয়, মেঘদূত প্রকাশন, অবনী প্রকাশন, জাগতিক প্রকাশন, ভিন্নচোখ প্রকাশনী, ঝিনুক প্রকাশনী, মনন প্রকাশ, রিদম প্রকাশনা সংস্থা, লাবনী, গাংচিল, ছোটদের জ্ঞানবিজ্ঞান প্রকাশনী, শিশুকিশোর প্রকাশন, সালাউদ্দিন বইঘর, বর্ষাদুপুর, বার্ড কম্প্রিন্ট এন্ড পাবলিকেশন, হোসাইনিয়া লাইব্রেরি, মিনা বুক হাউস, সিদ্দিকীয়া পাবলিকেশন্স, নলেজ ভিউ, বিভাস, বর্ণায়ন, মাটিগন্ধা, নবযুগ প্রকাশনী, সম্প্রীতি প্রকাশ, আহমদ পাবলিশিং হাউস, নলেজ মিডিয়া পাবলিকেশন্স, রোদেলা প্রকাশনী, বাঁধন পাবলিকেশন্স, মৌলি প্রকাশন, র‌্যামন পাবলিশার্স, রেয়ার বুকস, ঢাকা টাউন লাইব্রেরি, প্রান্ত প্রকাশন, শব্দশিল্প, রূপসী বাংলা, অক্ষরবুনন, শিশুরাজ্য প্রকাশন, জোনাকী প্রকাশন, ন্যাশনাল পাবলিকেশন্স, নিউ নভেল পাবলিকেশন্স, নূর কাসেম পাবলিকেশন্স, কথামেলা প্রকাশন, মনিহার বুক ডিপো, হাওলাদার প্রকাশনী, ছায়া প্রকাশন, ইলামী পাবলিকেশন্স, শিশুর পড়া, সোনামনি, ত্রয়ী প্রকাশন, ঝিঙেফুল, ইমন প্রকাশনী, চিলড্রেন পাবলিকেশন্স, মুক্তদেশ প্রকাশন, কাব্যগ্রন্থ প্রকাশন, এএইচ ডেভলপমেন্ট, মেঘ, রেঁনেসা, হরিৎপত্র প্রকাশন, সপ্তর্ষি, অর্পিতা প্রকাশনী, ব্রাদার্স পাবলিকেশন্স, শিশুবেলা, শিরীন পাবলিকেশন্স, বইপড়া, দর্পণ, শাহরিযয়ার পাবলিকেশন্স, সমতট, একুশে বাংলা প্রকাশন, রয়েল পাবলিকেশন, প্রতিভা প্রকাশ, সপ্তডিঙা, সদর প্রকাশনী, রূপ প্রকাশ, জনপ্রিয় প্রকাশনী, সিঁড়ি প্রকাশন, মেলা, শিলা প্রকাশনী, ডাক, শুভ্র প্রকাশ, ঘাসফড়িং, শাপলা দোয়েল, নব আলো পাবলিকেশন্স, তুষারধারা, কানামাছি, পরিবার পাবলিকেশন্স, সাহিত্য বিকাশ, দাঁড়িকমা প্রকাশন, চিলড্রেন বুক কালেকশন, বলাকা (চট্টগ্রাম), শব্দকথা (সিলেট), রাবোয় বুকস, ইচ্ছেস্বপ্ন প্রকাশনী, সাম্প্রতিক, চিলড্রেন স্টার বুকস, রুশদা, কাব্যগ্রন্থ প্রকাশন, প্রতীক প্রকাশনা সংস্থা, সাতভাই চম্পা, বইপত্র প্রকাশন, গ্রন্ধকুটির, শিশু গ্রন্থকুটির, আদিত্য প্রকাশ, টুম্পা প্রকাশনী, বিশ্বসাহিত্য ভবন, জলধি, ঝুমঝুমি প্রকাশন, চিলড্রেন বুক সেন্টার, বাবুই, প্রিয়বাংলা, বইপড়ি, পঙ্খিরাজ, শব্দশিল্প প্রকাশন (চট্টগ্রাম), আবির প্রকাশন, অর্জন প্রকাশন, বাঙালি, বলাকা প্রকাশন, জ্যোতিপ্রকাশ, গ্রন্থিক, শব্দসাগর, অন্বয় প্রকাশ, সুপ্ত পাবলিকেশন্স, বইউদ্যান, চৈতন্য, চন্দ্রদীপ, সাহিত্যদেশ, অমর প্রকাশনী, উত্তরণ,  গ্রন্থপ্রকাশ, দ্বৈতা প্রকাশ, চমন প্রকাশ, দশমিক, সাহিত্য কুটির, দেশ পাবলিকেশন্স, তৃণলতা প্রকাশ, ময়ূরপঙ্খি, প্রিয় সাহিত্য প্রকাশন, প্রতিকথা প্রকাশন, প্রতিবিম্ব প্রকাশন, সৌম্য প্রকাশনী, মেরিট ফেয়ার প্রকাশন, ম্যাগনাম ওপাস, তক্ষশিলা, পড়ুয়া, জনান্তিক, লিপিঘর প্রকাশনী, লালন বিশ্বসংঘ, মা সেরা প্রকাশন, বাংলানামা, নাগরী, পাপড়ি, মাছরাঙা, বুনন, তৃতীয় চোখ প্রকাশন, টাঙ্গন, আদিগন্ত প্রকাশন, শিশুপ্রকাশ, পুথিপ্রকাশ, শুদ্ধপ্রকাশ, কালো, ছায়াবীথি, অস্তিত্ব, ছোটদের সময় প্রকাশনী, চন্দ্রাবতী একাডেমি,  গোল্ডেন বুকস, বইপুস্তক প্রকাশন, খুশবু প্রকাশন, রূপকল্প, গ্রাফোসম্যান পাবলিকেশন্স, পাললিক সৌরভ, ছোটদের বই, স্বাধীন প্রকাশনী, সরলরেখা, অক্ষরবৃত্ত, ঝিলমিল প্রকাশন, অপেরা পাবলিকেশন্স, মুদ্রণশিল্প, গল্পকার, ইন্তামিন প্রকাশন, হলি পাবলিকেশন, চিলড্রেনস পাবলিকেশন, কিশোর ভুবন পাবলিশার্স, শৈলী প্রকাশন, কালধারা প্রকাশনী, অক্ষর সংস্কৃতি প্রকাশন, মনন প্রকাশন (চট্টগ্রাম), কথন প্রকাশন, পূর্বা প্রকাশন, বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ ট্রাস্ট, প্রজ্ঞালোক প্রকাশন, পেন্সিল, মাইজভাণ্ডারী প্রকাশনী, দ্বীনদুনিয়া প্রকাশনী, শিশুমনন, কিউস পাবলিকেশন্স, সালফি পাবলিকেশন্স, আপন আলো, সাদার্ন ইউনিভার্সিটি প্রেস, আলোর ধারা বুকস, রানা প্রকাশনী, খড়িমাটি, বিদ্যানন্দ প্রকাশনী, শালিক প্রকাশন, কথাবিচিত্রা, চন্দ্রবিন্দু (চট্টগ্রাম), গুলই প্রকাশন, নন্দন প্রকাশন,  শব্দাঙ্গন, চর্চাপ্রকাশ কেন্দ্র, সাহিত্য বিচিত্রা, বাক্যবিলাস প্রকাশন, লাল সবুজ প্রকাশন, লাবণ্য প্রকাশন, এ্যামেলিয়া প্রকাশন, দ্বিমত প্রকাশন, ধ্রুবতারা প্রকাশনী, জ্ঞানবিতান প্রকাশনী, স্বরেঅ, শাহজী প্রকাশনী, কালান্তর, ইতিহাসের খসড়া, রাদিয়া প্রকাশন, ক্যারিয়ার পাবলিকেশন, উপকথা, নটিলাস পাবলিশেন্স, উচ্ছ্বাস প্রকাশনী।

অই

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.