বরিশাল নগরীর কালীবাড়ি রোডে সরকারি ভিপি সম্পত্তিতে প্রায় ছয় দশক ধরে বসবাস করে আসা সাতটি পরিবার উচ্ছেদের আশঙ্কা প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছে। তারা অভিযোগ করেছেন, একটি প্রভাবশালী মহল নানা কৌশলে জমিটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় নিজেদের বৈধ বসবাসের অধিকার রক্ষায় বরিশালবাসীর সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেছেন তারা।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১১টায় নগরীর কীর্তনখোলা মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নগরীর রাখাল বাবুর পুকুরের উত্তর পাড় এলাকায় বগুড়া-আলেকান্দা মৌজার জে.এল. নম্বর ৫০-এর ১৫২৭ নম্বর খতিয়ানের ৩৮৭৭ নম্বর দাগভুক্ত ১৫ শতাংশ জমিতে তাদের পূর্বপুরুষরা পঞ্চাশের দশক থেকে বসবাস করে আসছেন। জমিটির মূল মালিক ছিলেন কালীচরণ কুন্ডু। দেশভাগ-পরবর্তী সময়ে তিনি পরিবারসহ ভারতে চলে গেলে সম্পত্তিটি ভিপি তালিকাভুক্ত হয়। পরে সেখানে বসবাসরত পরিবারগুলো সরকারি নিয়ম অনুযায়ী লিজ গ্রহণ করে বৈধভাবে বসবাস শুরু করে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
বক্তারা বলেন, বরিশাল শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চমূল্যের এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর নজর রয়েছে এ সম্পত্তির ওপর। অতীতেও একাধিকবার রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার জোরে জমিটি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় সচেতন মহল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিবাদের মুখে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
তাদের অভিযোগ, বর্তমানে গৌরনদীর বাসিন্দা কাজী আতাহার আলী কালীচরণ কুন্ডুর স্ত্রী সারদা সুন্দরী দেবীর নামে ১৯৬৩ সালের একটি অনিবন্ধিত বায়না চুক্তিপত্র দেখিয়ে জমিটি ভিপি তালিকা থেকে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। একই সঙ্গে জমির দখল নেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে আদালতে আইনি লড়াই চলমান রয়েছে এবং আমরা সেই প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখি। কিন্তু আদালতের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আমাদের এবং আমাদের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা আরও দাবি করেন, জমিতে বসবাসরত অধিকাংশ পরিবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হওয়ায় তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক চাপের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আইনগতভাবে ব্যর্থ হয়ে যদি কোনো পক্ষ প্রভাব, অর্থ বা শক্তির জোরে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে তা শুধু সাতটি পরিবারের আবাসন সংকটই নয়, বরং আইনের শাসনের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আমরা কোনো অবৈধ সুবিধা চাই না। আমরা শুধু আমাদের দীর্ঘদিনের বৈধ বসবাসের অধিকার রক্ষা করতে চাই। ছয় দশক ধরে এখানে বসবাসরত সাতটি পরিবারের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে। আমরা বরিশালের সচেতন নাগরিক, মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই, যেন কোনো অপশক্তি বেআইনিভাবে আমাদের উচ্ছেদ করতে না পারে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য দিলীপ চক্রবর্তী, সঞ্জয় দত্ত, রূপা দাস, রাজীব ঘোষ, বিশ্বনাথ দাস (বিশু), গৌরী রানী গুহসহ অন্যান্যরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









