সুন্দরবনে ২৪ দিন জিম্মি থাকার পর দস্যুদের কবল থেকে ফিরে এসেছে শরণখোলার দুই জেলে। ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বুধবার (২৭ মে) রাতে তারা বাড়িতে ফিরে আসে।
এর আগে গত ৩ মে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ছোট খাজুরা এলাকায় মাছ ধরার সময় বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে অপহৃত হন তারা।
ফিরে আসা জেলেরা হলেন- উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামের সগীর বয়াতী (৪০) এবং বকুলতলা গ্রামের সরোয়ার হোসেন (৩৮)।
বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর কাছে বিভিন্ন এলাকার এখনো ১৮ জেলে জিম্মি রয়েছেন। এই জিম্মি জেলেরা গত ১৯ মে সুন্দরবনের ফুসফুসের চর এবং ২০ মে ছাপড়াখালী এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হন এই দস্যু বাহিনীর হাতে।
দস্যুদের কবল থেকে ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছেন, দস্যুরা তাদের দিয়ে বিভিন্ন কাজ করিয়েছেন। ঠিক মতো খাবার দিত না। মশার কামড় আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকা এবং তিন বেলা খাবার না খেতে পেরে তারা শারীরিকভাবে অনেকটা অসুস্থ।
এই জেলেরা আরো জানান, দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা অবস্থায় সারাক্ষণ আতঙ্কে কাটাতে হয়েছে। সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া এখন জেলেদের কাছে অনেকটা জীবনের ঝুকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান তারা।
সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সমাজসেবক ওবায়দুল শেখ জানান, বনদস্যুদের তাণ্ডবে শরণখোলার জেলেরা দিশেহারা। দস্যুরের চাঁদাবাজির কারণে এ অঞ্চলের জেলেরা সুন্দরবনে মাছ ধরা বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছে । সুন্দরবনে মাছ ধরা বন্ধ হলে দরিদ্র পরিবারগুলো খুবই আর্থিক সংকটে পড়বে। দস্যুদমনে আরো কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো.খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন সুন্দরবনে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা শরণখোলার দুই জেলে ফিরে আসার কথা শুনেছেন। বন বিভাগের সীমাবদ্ধতার কারণে দস্যুদের বিরুদ্ধে বড় ধরণের কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না তারা। তবে দস্যুদের অবস্থান ও গতিবিধি লক্ষ্য রাখছেন তারা। মাঝেমধ্যে সাধ্যমতো অভিযানও পরিচালনা করছে বন বিভাগ। অচিরেই সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই কর্মকর্তা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









