মৃত্যু কখনো কখনো একজন মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার গভীরতাও প্রকাশ করে। জীবনের শেষ প্রান্তে দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করা শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আনিছুর রহমানের বিদায়ে সেই ভালোবাসারই এক আবেগঘন প্রতিচ্ছবি দেখা গেল তার নিজ গ্রাম মাধখলায়।
সোমবার (৮ জুন) সকাল থেকেই প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে এবং চিরবিদায় জানাতে দলে দলে ছুটে আসেন হাজারো মানুষ। জানাজার মাঠ পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
শোকের এ পরিবেশকে আরও ভারী করে তোলে আরেক মর্মস্পর্শী ঘটনা—ভাইয়ের মৃত্যুর খবর সহ্য করতে না পেরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তার বড় বোন রাশিদা খাতুন। ফলে একই দিনে, একই স্থানে, একই জানাজায় বিদায় জানানো হয় দুই ভাই-বোনকে।
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আনিছুর রহমানের জানাজার নামাজ সোমবার বেলা ১১টায় মাধখলা গ্রামে তার বাড়ির পাশে অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে বড় বোন রাশিদা খাতুনেরও জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তাকে শেষবারের মতো দেখতে এবং জানাজায় অংশ নিতে আসেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের উপস্থিতি এতটাই বেড়ে যায় যে জানাজার মাঠ ছাড়িয়ে মুসল্লিদের অবস্থান নিতে হয় আশপাশের সড়ক, অলিগলি এবং বাড়ির উঠানেও। অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, কণ্ঠে ছিল প্রিয় মানুষটিকে হারানোর বেদনা।
জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, আলেম, গণমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুসহ স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
জানাজা শেষে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান উপস্থিত মুসল্লিরা।
আনিছুর রহমান (৬২) রবিবার (৭ জুন) বিকেলে ঢাকার উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি টানা চারবার শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি স্থানীয় জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন। দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন এবং নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, তার মৃত্যুর সংবাদ বাড়িতে পৌঁছানোর পর বড় বোন রাশিদা খাতুন শোকে জ্ঞান হারান। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এক ভাইয়ের মৃত্যুশোক যে আরেক প্রাণ কেড়ে নেবে, এমন ঘটনায় এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









