দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বুলবুল হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট শার্শা সাব রেজিস্ট্রি অফিস নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় সাধারণ সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি বৃদ্ধিসহ কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি,দলিল নিবন্ধনে অতিরিক্ত অর্থ আদায়,জাল নাম পত্তনের সাহায্যে সরকারি জমি ব্যাক্তি মালিকানায় রেজিস্ট্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছেন বুলবুল ও তার প্রধান সহযোগী যশোরের বহুবিতর্কিত সাব রেজিস্ট্রার মোঃ শাহিন আলম।
সাম্প্রতি ক্ষমতার অপব্যাবহার করে খাস জমি ব্যাক্তি মালিকানায় রেজিস্ট্রি করে দেওয়া অভিযোগে শার্শা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে মোঃ শাহিন আলমকে।
যশোর জেলা রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আবু তালেব সাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে,গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের নির্দেশনায় শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ শাহিন আলমকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।
ভুয়া দলিল সম্পাদনে জেল-জমিানার বিধান থাকলেও এখনো পর্যন্ত দলিল লেখক বুলবুলের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেইনী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ উর্দ্ধতণ কর্তৃপক্ষ। সিন্ডিকেট হোতা দলিল লেখক বুলবুল শার্শার জুলফিকার আলী জুলুর ছেলে ও সরকারদলীয় রাজনৈতিক দলের সমর্থক।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়,গত ৫ আগস্ট ২৪সালে আওয়ামী সরকারের পতনের পর শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় বুলবুল হোসেন। শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস চত্তরে গণ্যমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশে বাধা,অনিয়ম-দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিককে হুমকি,দলিল লেখকদের জিম্মি করে বাড়তি অর্থ আদায়,জমি রেজিস্ট্রিতে আপত্তি থাকলেও নিজ পেটুয়া বাহিনী দিয়ে অভিযোগকারীকে অফিসে আটক রাখার মত গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকান্ডের খল নায়ক বুলবুল।
শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অনিয়ম-দূর্নীতির তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়,শার্শা উপজেলার সেতাই গ্রামের ৪৪ শতক সরকারি খাস জমি ভুয়া খতিয়ান তৈরীর মাধ্যমে ব্যাক্তিমালিকানাধীন দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। বেআইনী একাজে দলিল লেখক বুলবুল ও সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজজ রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
সরকারী জমির ক্রেতা আফসার আলী জানান, নগত ১০লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সেতাই গ্রামের ওয়াজেদ আলীর নিকট হতে জমিটি ক্রয় করেছেন| লোকমারফত অবগত হয়ে জমির কাগজপত্র যাচাই বাছাই শেষে তিনি জানতে পারেন জমিটি সরকারি খাস খতিয়ানের( ১)সম্পত্তি।
এছাড়াও শার্শা সাবরেজিস্ট্রার অফিসে ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল তারিখে সম্পাদিত ৩টি দলিলে ( কবলা দলিল নং- ২৩১২,দলিল নং-২৩৬৪ ও দলিল নং-২২৯২) অনিয়ম-দূর্নীতির তথ্য মিলেছে।
দলিল গুলো পর্যালোচনায় দেখা যায় জমির প্রকৃত অবস্থা ও মূল্য গোপন করে শ্রেনী পরিবর্তনের মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে| বালুন্ডা মৌজার ২৫শতক জমির মূল্য ৩ লাখ ৩৩হাজার এবং শ্রেণি পরিবর্তন করে ধানী, বুরুজবাগান মৌজার ১১শতক জমির মূল্য ৫ লাখ এবং শ্রেণি পরিবর্তন করে ডোবা এবং বুরুজবাগান মৌজার ৩.২৬শতক জমির মূল্য ১ লাখ এবং শ্রেণি পরিবর্তন করে ডোবা দেখিয়ে দলিল সম্পাদন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য মতে এই তিন দলিলে প্রায় ৪৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা জমির প্রকৃত মূল্য গোপন করা হয়েছে এতে সরকার মোটা অঙ্কের রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে| অভিযোগ রয়েছে দানপত্র বা হেবা ঘোষণাপত্রের শতক প্রতি জমিতে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত অর্থ আদায়,বিনিময় দলিল অথবা ভ্রম সংশোধন দলিলের ক্ষেত্রে নিন্ম ৫০ হাজার টাকা হতে পাঁচ লাখ টাকার অবৈধ অর্থ আদায় করে থাকে বুলবুল সিন্ডিকেট।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করলে বুলবুল অস্বীকার করে বলেন এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন|এলাকার সচেতন মহলের দাবী শার্শা সাব- রেজিস্ট্রি অফিসের অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্য হলেও আজও পর্যন্ত কার্যকরী পদক্ষেপ নেইনী জেলা রেজিস্ট্রার।
এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আবুতালেব বলেন,শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ গুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সরকারি জমি ব্যাক্তিমালিকানায় রেজিস্ট্রি প্রশ্নে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন সরকারি জমি রাষ্ট্রের সম্পদ। আইন অনুযায়ী এসব জমি নির্ধারিত প্রক্রিয়া ছাড়া হস্তান্তরের সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা মিললে একাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









