বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় একটি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের অতর্কিত হামলায় শিশু ও নারীসহ অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার রথখোলা বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের এলাকা জুড়ে এই নজিরবিহীন পাগলা কুকুরের তাণ্ডব চলে।
এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা সংঘবদ্ধ হয়ে দীর্ঘ চেষ্টার পর কুকুরটিকে ধাওয়া করে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আহতদের স্বজনরা জানান, বিকেলের দিকে একটি বেওয়ারিশ কুকুর হঠাৎ করেই হিংস্র ও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এরপর মহাসড়ক ও সংলগ্ন এলাকায় কুকুরটি সামনে যাকে পেয়েছে, তার ওপরই ঝাঁপিয়ে পড়ে কামড়ে রক্তাক্ত করেছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীসহ একে একে ২৭ জন এই পাগলা কুকুরের কামড়ের শিকার হন।
কুকুরের কামড়ে আহতদের মধ্যে ২৫ জনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন:- রাবেয়া আক্তার (১০), মনিরা বেগম (৪৫), বেল্লাল (১০), সাহেব আলী (৬৫), আতাই (২), আরাফাত (৬), আয়ান (৫), আল আমিন (৪৩), মিনারা বেগম (৬০), জিদনী (২৫), তাওহীদ (২৪), সোহাগ মোল্লা (৪০), প্রত্যয় (২), বিউটি (৪০), রুনু বেগম (৪৫), শাহানুর (৩৭), জান্নাত (৪), মিলন (২৪), নুপুর (৪২), সালমা (৩৫), সেলিনা (৩০), মনজু হালদার (৪৮), হাফিজুল (৩৬), সরোয়া হোসেন (৩৮), মাসুমা (৫৫) এবং পারুল বেগম (৬০)।
আহতদের চিৎকার ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে সেখানে এক জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
হাসপাতালের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মাহামুদুল হাসান জানান, কুকুরের কামড়ে আহতদের মধ্যে ২৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ড্রেসিং শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে দুজনের আঘাত তুলনামূলক গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, যেহেতু পাগলা কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক (Rabies) রোগের তীব্র ঝুঁকি থাকে, তাই আহত প্রত্যেককে অতি দ্রুত প্রতিষেধক টিকা বা ভ্যাকসিন নেওয়ার কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









