শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের জালিয়াহাটি গ্রামের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শুকুম আলী চৌকিদার দীর্ঘ ১৮ বছর পর শিকলমুক্ত হয়েছেন। সংবাদ প্রকাশের পর তার পায়ের শিকল খুলে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (২০ জুন) বিকেলে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইউম খানের তত্ত্বাবধানে শুকুম আলীকে ঢাকার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
এরআগে শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় পত্রিকা ‘দৈনিক এদিন’-এ ‘চিকিৎসার অভাবে পঙ্গুত্বের পথে শুকুম আলী’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। সংবাদটি প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জন্ম থেকেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শুকুম আলী প্রায় ১৮ বছর ধরে পরিবারের তত্ত্বাবধানে শিকলবন্দী অবস্থায় জীবনযাপন করছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, একবার তিনি নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো।
শুকুম আলীর ভাই লোকমান চৌকিদার বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। অনেক বছর ধরে ভাইকে দেখাশোনা করছি। সে একবার হারিয়ে গিয়েছিল, তাই নিরাপত্তার জন্য বেঁধে রাখতে হয়েছিল। প্রশাসন এগিয়ে আসায় আমরা খুব খুশি। এখন যদি ভাই ভালো চিকিৎসা পায়, তাহলে আমাদের কষ্ট অনেকটাই কমবে।”
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শুকুম আলীর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের ব্যয় সরকারি ব্যবস্থাপনায় বহন করা হবে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলবে।
এ বিষয়ে ইউএনও আব্দুল কাইউম খান বলেন, “শুকুম আলীর বিষয়টি জানার পরপরই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য যা যা প্রয়োজন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের আশা, দীর্ঘদিনের শিকলবন্দী জীবন শেষে যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে শুকুম আলী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









