ভোলার লালমোহনে মো. নয়ন (১৮) নামের এক কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার পর আশরাফ ও আরমান নামের আরও দুই কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। ঘটনার পর খুনের কাজে ব্যবহৃত একটি সুইচগিয়ার চাকু নিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন মো. মানিক।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে লালমোহন পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্বর্ণদ্বীপ রোডে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত নয়ন লালমোহন পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী সালাউদ্দিনের ছেলে এবং সে লালমোহন ডা. আজহার উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। অন্যদিকে, মো. মানিক লালমোহন সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলাউদ্দিনের ছেলে এবং সে লালমোহন আব্দুল ওহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. হাসিবুর রহমান জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মো. নয়ন মারা যায়। অন্যদিকে, ছুরিকাঘাতে আহত আশরাফ ও আরমানকে ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
লালমোহন থানার ওসি আলীউল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই ঘাতক একটি চাকু নিয়ে থানায় হাজির হয়ে খুনের কথা স্বীকার করেছে এবং সে এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
থানার ডিউটি অফিসারের সামনে খুনের স্বীকারোক্তি, খুনি মানিকের বড় বোন মুক্তা বেগম ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, খুনি মানিকের সাথে আব্দুল ওহাব হাইস্কুলের এক ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় কিছু ছেলের সাথে মানিকের ঝামেলা চলছিল। ঘটনার সময় আব্দুল ওহাব হাইস্কুলের পাশে স্বর্ণদ্বীপ রোডের মধ্যে মানিক ও নিহত নয়ন, আহত আশরাফ ও আরমানের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে প্যান্টের পকেট থেকে চাকু বের করে তিনজনকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে।
এ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় নয়ন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দৌড়ে পালিয়ে যায় মানিক। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে নয়নকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নিহত নয়নের পিতা সালাউদ্দিন জানান, তার ছেলের বিরুদ্ধে কোনো খারাপ রেকর্ড নেই। লেখাপড়া ছাড়া সে কোনো কিছুর সাথে জড়িত ছিল না। তবে কেন তাকে হত্যা করা হলো তা তিনি জানেন না। তিনি নয়নের খুনের উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









