‘শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে’ শিরোনামে জাতীয় পত্রিকা ‘দৈনিক এদিন’ -এ সংবাদ প্রকাশের পর ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সোয়েব মুন্সিকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে তাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
অপরদিকে, শুক্রবার (৩ জুলাই) শোয়েব মুন্সিকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহত মানিক মিয়ার (৪০) স্ত্রী মোছা. সুমাইয়া আক্তার সেলিনা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃত নেতাদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না এবং যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন ইতোমধ্যে কার্যকর করেছেন।
এরআগে বুধবার (১ জুলাই) ময়মনসিংহের গৌরীপুরে মানিক মিয়া (৪০) নামে এক শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে, যদিও হাসপাতালে ভর্তির কাগজে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ডে উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি ও পালকি গাড়ির চালক মানিক মিয়ার উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত মানিক মিয়া গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার আজিবুল ইসলামের ছেলে।
নিহতের ছোট ভাই সুখ মিয়া বলেন, ‘‘যুবদল নেতা সোয়েব মুন্সির পুর্বপুরুষদের সাথে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এছাড়া আমরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম। আমরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমরা বিভিন্ন সময়ে পলাতক ছিলাম।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমার ভাই শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক নেতা। সে পালকি গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১১টার দিকে মানিক গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে বসে ছিলেন। এ সময় সুয়েব মুন্সি ১০/১৫ জন লোক নিয়ে এসে আমার ভাইকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে বাসস্ট্যান্ড থেকে সতিশা রোড এলাকায় নিয়ে ভাবী সেলিনাকে ডেকে এনে আহত অবস্থায় ভাইকে দিয়ে চলে যায়। এরপর তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে ভর্তি করা হলে ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে ভাই মারা যান।’’
সুখ মিয়া বলেন, ‘‘আমার ভাইকে হাসপাতালে ভর্তি করার সময় বিভিন্ন হুমকি দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। আমি আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার দেখতে চাই। ওদের বিচার চাই।’’
হাসপাতালের একটি সূত্র বলছে, রোগীকে ভর্তি সময় সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখ করা হয়। নিহতের পরিবারকে বলা হয়েছে, হাসপাতাল পরিচালক বরাবর আবেদন করলে বিষয়টি সংশোধন করে দেওয়া হবে। তবে, এতে ৪/৫ দিন সময় লাগতে পারে।
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুয়েব মুন্সি ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, ‘‘আমি বিষয়টি শুনেছি। এই ঘটনার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নাই। ওরা এলাকায় চিন্হিত মাদক ব্যবসায়ী। মাদক ব্যবসা নিয়ে স্থানীয়দের বিরোধ চলে আসছিল। মাদক ব্যবসার কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে।’’
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমানের নাম্বারে ফোন দিলে নিহতের নাম ঠিকানা ছাড়া কিছু বলতে রাজি হননি।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তার করতে তারা মাঠে কাজ করছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









