গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোকে কেন্দ্র করে এক যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রায়েদ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাদিউল ইসলাম, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, রায়েদ বাজার কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান সরদার, রায়েদ ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য বাদল চৌধুরী, ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি সোহেল রানা সোহরাব এবং রায়েদ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলম সিকদার।
বক্তারা জানান, গত ২ জুলাই সন্ধ্যায় রায়েদ বাজারে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে যুবদল নেতা সোহেল রানা সোহরাবের ওপর হামলা চালান। তাদের অভিযোগ, মিলন, ড্রাইভার আল আমিন, মেকার রুহুল আমিন ও পারভেজ হামলার ঘটনায় জড়িত।
সংবাদ সম্মেলনে ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, ‘‘রায়েদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চললেও এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদেরই হামলার শিকার হতে হচ্ছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।’’
৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাদিউল ইসলাম বলেন, ‘‘মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু যারা এ উদ্যোগে সক্রিয়, তাদের ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক এবং নিন্দনীয়।’’
৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘‘অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে এলাকায় অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়তে পারে।’’
রায়েদ বাজার কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান সরদার বাজার এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
আহত যুবদল নেতা সোহেল রানা সোহরাব অভিযোগ করে বলেন, ‘‘মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।’’
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, হামলার সময় গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সোহেল রানা সোহরাব। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন, যেখানে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
বক্তারা শেষ পর্যন্ত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি রায়েদ এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মিলন, ড্রাইভার আল আমিন, মেকার রুহুল আমিন ও পারভেজের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









