যশোরের শার্শা উপজেলা মৎস্য অফিসে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবল সংকট বিরাজ করছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় মৎস্যচাষিদের সময়মতো কারিগরি সেবা, পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলের মৎস্য খাতের মাঠ পর্যায়ের তদারকি কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শার্শা উপজেলা মৎস্য অফিসে অনুমোদিত ছয়টি পদের বিপরীতে দীর্ঘ বছর ধরে চারটি পদই শূন্য রয়েছে। বর্তমানে মাত্র দুজন জনবল নিয়ে চলছে পুরো অফিসের কার্যক্রম। এক কর্মকর্তাকে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় সেবা প্রত্যাশীদের সেবার মান যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, তেমনি দূর-দূরান্ত থেকে অফিসে এসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় মৎস্যচাষিরা।
অথচ কৃষির পাশাপাশি মৎস্য খাতও এ অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, শার্শায় ৪.৪০ হেক্টর খাস জমিতে সরকারি পুকুরসহ ৩,৫৬৫.৬০ হেক্টর জমিতে বেসরকারি পুকুর রয়েছে; যা থেকে বছরে ২৯ হাজার ৬৮৬ দশমিক ৮৬ মেট্রিক টন রুই, কাতলা, মৃগেল, মাগুর, পাঙাশ ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদিত হয়। এই বিপুল উৎপাদন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলাতেও সরবরাহ করা হয়।
জনবল সংকটের সত্যতা নিশ্চিত করে শার্শা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার পলাশ বালা বলেন, "বর্তমানে আমি ও আমার পিয়ন—এই দুইজনে মিলে পুরো উপজেলার অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ফলে মাঠ পর্যায়ে খামার পরিদর্শন, নতুন উদ্যোক্তাদের পরামর্শ প্রদান, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনার মতো অতি জরুরি কাজ সম্পাদনে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক সময় প্রয়োজনীয় সেবা নির্ধারিত সময়ে দেওয়া সম্ভব হয় না।"
এ বিষয়ে যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, "শার্শার শূন্য পদগুলোতে কর্মকর্তা পদায়নের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মৎস্য ভবনে একাধিকবার চিঠি পাঠালেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা মেলেনি। মাত্র দুজন মানুষ নিয়ে এত বড় একটি উপজেলায় কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সত্যিই দূরূহ। গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দ্রুততম সময়ে শূন্যপদগুলো পূরণের দাবি জানাচ্ছি।"
খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই শূন্যপদগুলো পূরণ করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করা হলে শার্শার মৎস্য চাষিরা আরও উপকৃত হবেন এবং এই অঞ্চলের মৎস্য উৎপাদনে আরও গতি আসবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









