সারাদেশে চলমান ছাত্র আন্দোলনের রেশ এবার এসে লেগেছে সিরাজগঞ্জেও। এইচএসসি পরীক্ষা পরিচালনায় নানা চরম অব্যবস্থাপনা, প্রশ্নপত্রের ত্রুটি এবং খামখেয়ালিপূর্ণ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন জেলার সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে তার পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জ শহর।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ শহরের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জেলার বিভিন্ন কলেজ ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা শহরের মূল সড়কগুলোতে জড়ো হতে থাকেন। ব্যানার, ফেস্টুন হাতে হাজারো শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে মুহূর্তের মধ্যেই একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল রূপ নেয়। মিছিলটি শহরের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে বর্তমান শিক্ষা প্রশাসনের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে।
বিক্ষোভ মিছিলটি পুরো শহর ঘুরে একপর্যায়ে স্থানীয় বাজার স্টেশন চত্বরে এসে সমবেত হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা সড়কের ওপর বসে পড়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। তারা ‘দফা এক দাবি এক—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, ‘শিক্ষা নিয়ে ছিনিমিনি, মানব না মানব না’—এমন নানা ধরনের অধিকার আদায়ের স্লোগান দিতে থাকেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী জানান, চলমান এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলো চরম উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। একদিকে প্রশ্নপত্রে একের পর এক ভুল, অন্যদিকে ভয়াবহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা না করে পরীক্ষা জোরপূর্বক চালিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এর ওপর যোগ হয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য, যা শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে। আন্দোলনকারীদের মতে, এত বড় দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষার্থীরা কেবল মন্ত্রীর পদত্যাগই নয়, বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার চেয়েছেন। তাদের মূল দাবিগুলো হলো, এইচএসসি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
শিক্ষার্থীবান্ধব ও বাস্তবসম্মত পরীক্ষার রুটিন প্রণয়ন করা। প্রশ্নপত্র তৈরিতে শতভাগ নির্ভুলতা ও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা।
শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক অবস্থান কর্মসূচির কারণে বাজার স্টেশন ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে কিছু সময়ের জন্য সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সাময়িকভাবে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েন। তবে আন্দোলন শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়।
পুরো কর্মসূচি চলাকালীন যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যে কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষ হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









