পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর এলাকার বিবি আয়েশা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় সহকারি শিক্ষক মাওলানা আব্দুল সাত্তারকে বিদ্যালয় সভাপতি'র স্বামীর কর্তৃক মারধর ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক আব্দুস সাত্তার (৫৬) দশমিনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বুধবার(২২ জুলাই) উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বিবি আয়েশা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, গত ২২ জুলাই সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বিদ্যালয়-সংক্রান্ত আলোচনা চলাকালে অভিযুক্ত মো. জামাল ব্যাপারীর সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত জামাল তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, মারধরের সময় তার পকেটে থাকা ১০,০০০ টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়। চিৎকার শুনে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক অভিযোগে আরও জানান, আহত অবস্থায় তাকে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগ শিক্ষক আব্দুল সাত্তার বলেন, “আমি ১৯৯৭ সাল থেকে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছি এবং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করে আসছি। চলতি বছরের ২৮ জুন বিদ্যালয়ে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। ওই সময় আমি অসুস্থ থাকায় ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। পরে বিদ্যালয়ে যোগদান করি। মঙ্গলবার সভা চলাকালে সভাপতির স্বামী জামাল মিয়া আমাকে বলেন আপনি আমাদের বিপক্ষে কাজ করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি সবার সামনে আমাকে মারধর করেন। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও জানাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, “সভা চলাকালে জামাল মিয়া ও শিক্ষক আব্দুল সাত্তারের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। তবে আমার সামনে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।”
অভিযোগ অস্বীকার করে মো. জামাল মিয়া বলেন, “আজ বিদ্যালয়ে ব্র্যাকের করতে শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রীদের বিষয় একটি সভা ছিল। বৃষ্টির কারণে আমার স্ত্রী, যিনি অ্যাডহক কমিটির সভাপতি, কিছুটা দেরি করছিলেন। তাই আমি আগে সেখানে যাই। আব্দুল সাত্তার সাহেবের সঙ্গে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি। সভা শেষে বাইরে সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









