বর্ষা কিংবা অমাবস্যা -পূর্ণিমার জো এলেই আতঙ্কে দিন কাটে হালদা নদীর রাউজান অংশের তীরবর্তী মানুষের। নদীর পানি একটু বাড়লেই নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়, ডুবে যায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি। বছরের পর বছর ধরে বন্যা, জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙনের এই দুর্ভোগ যেন তাদের নিত্যসঙ্গী। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে স্থায়ী মুক্তির আশায় এবার হালদার রাউজান অংশে স্থায়ী ফ্লাড ওয়াল নির্মাণসহ নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এই দাবিতে কয়েকশ ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের হালদা নদীর তীরবর্তী জিয়া বাজার এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উরকিরচর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হালদা নদী শুধু একটি নদী নয়, এটি রাউজানের বহু মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নদীর ভাঙন, বর্ষার পানির চাপ ও অপরিকল্পিত জলাবদ্ধতার কারণে তীরবর্তী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিবছর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থায়ী সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
মানববন্ধনে হালদা নদী রক্ষায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, রাউজান অংশে স্থায়ী ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ, শাখা খালে আধুনিক ও টেকসই প্লুইস গেইট স্থাপন, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা নিরসন, হালদার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ প্রদান।
মানববন্ধন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক লোকমান হাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম উত্তর জেলার বায়তুলমাল সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. আব্দুল হামিদ চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের রাউজান উপজেলা আমীর শাহজাহান মঞ্জু। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উরকিরচর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মো. করিমুল্লাহ।
সংগঠনের ইউনিয়ন সেক্রেটারি প্রকৌশলী মো. ইসমাইলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. আবুল হাশেম, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম আনছারী, ইউনিয়ন শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান রনি, শিক্ষাবিদ ইউসুফ ইমন, নোয়াপাড়া ইউনিয়নের আমীর মো. ইলিয়াস ও সংগঠক গাজী মুহাম্মদ ইমতিয়াজ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়ক আরমান হোসেন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন উরকিরচর ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রহমান, কবি ও লেখক মোহাম্মদ আলী সুমন, সংগঠনটির ইউনিয়ন বায়তুলমাল সম্পাদক আতাউল মোস্তাফা, অফিস সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, সংগঠক মোহাম্মদ শওকত, জাবেদ ইয়াকুব, নুরুল কবির, রাকিব, টিপু, রাশেদুল আলম, আনোয়ার, নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হালদা নদীর হাটহাজারী অংশে ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ করা হলেও রাউজান অংশে এখনো এ ধরনের কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেই উরকিরচর ও নোয়াপাড়া ইউনিয়নের হালদা তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়। পানিবন্দি হয়ে পড়ে মানুষ, ব্যাহত হয় শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। ক্ষতির মুখে পড়ে কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এ সমস্যা চলমান থাকলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। তাদের দাবি, সম্প্রতিকালে হাটহাজারী অংশে ফ্লাড ওয়াল নির্মাণের পর পানির চাপ রাউজান অংশে তুলনামূলক বেড়েছে। ফলে জোয়ার ও বন্যার সময় তীরবর্তী সড়ক, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। শুধু সাময়িক উদ্যোগ নয়, পরিকল্পিত ও টেকসই প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে হালদার রাউজান অংশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নদী রক্ষা, জনপদ সুরক্ষা ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









