সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে ভিডিও বিতর্কের বিষয়ে দেয়া বক্তব্য নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক আব্দুল খালেক।
আব্দুল খালেক বলেছেন, সম্প্রতি একটি গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি নিজের কোনো মতামত দেননি। বরং গাজী নজরুল ইসলাম, সংশ্লিষ্ট তরুণী ও তার পরিবারের সঙ্গে দলীয়ভাবে কথা বলার সময় তারা যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিই তিনি জনসমক্ষে তুলে ধরেছিলেন। তার অভিযোগ, কিছু গণমাধ্যম তার বক্তব্যের একটি অংশ প্রকাশ করে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, যাতে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে এবং তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে সাতক্ষীরা শহরের মুন্সিপাড়ায় জেলা জামায়াতের কার্যালয় থেকে ধারণ কারা এর বিবৃতিতে তিনি এ ব্যাখ্যা দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের গদাঘাটা এলাকায় আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেয়া তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
আব্দুল খালেক জানান, শিবপুরের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় উপস্থিত লোকজন তার কাছে গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চান। তখন তিনি দলীয় তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট তরুণী ও তার বাবার দেওয়া বক্তব্যের সারাংশ তুলে ধরেন।
তার ভাষায়, ‘আমি আমার ব্যক্তিগত কোনো বক্তব্য দিইনি। আমি শুধু বলেছি, আমরা যখন তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তখন তারা কী বলেছেন। মেয়ে ও তার বাবা যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিই উপস্থিত মানুষের প্রশ্নের জবাবে তুলে ধরেছি। কিন্তু সেটিকে আমার ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, যা সঠিক নয়।
আব্দুল খালেক আরও বলেন, ‘আমার বক্তব্যের পরেই আমি স্পষ্ট করেছি যে ঘটনাটি অনৈতিক এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি যথার্থ। আমরা সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত। জনগণও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।’
সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এমপি খালেক বলেন, কিছু সংবাদমাধ্যম তার বক্তব্যের আংশিক অংশ কেটে প্রকাশ করেছে। এতে বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ বদলে গেছে।
আব্দুল খালেক বলেন, কিছু মিডিয়া ও পত্রিকা বক্তব্যের অংশবিশেষ প্রকাশ করে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সাংবাদিকদের কাছে আমার অনুরোধ, বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরুন।
বৃহস্পতিবার শিবপুর ইউনিয়নের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আব্দুল খালেক বলেছিলেন, এমপি সাহেবের বড় ওয়াইফসহ সবাইকে আমরা ডেকে নিয়ে বসে দেখলাম যে, ওই মেয়েটির আবদারের প্রেক্ষিতে, আমি অন্য জায়গায় বিয়ে করব না, আমি যতদিন বাঁচব, এমপি সাহেবকে সেবা করে যাব, এভাবেই মেয়েটির অগাধ দাবির মুখে তার মা-বাবা বাধ্য হয়ে তাদের বাড়িতে পরিবারের বিবাহের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু কাজটা হয়েছে অসামাজিক, অনৈতিক না; অসামাজিক। এই অসামাজিক কাজের কারণে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এমপি সাহেবের সংগঠন থেকে সম্পূর্ণ তাকে বহিষ্কার করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অতএব জামায়াতে ইসলামী নৈতিক ব্যাপারে এবং যেটা হওয়া উচিত সেই ব্যাপারে যদি কেউ স্লিপ করে, সে ব্যাপারে কাউকে ক্ষমা করে না।
শুক্রবারের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক আবারও বলেন, গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নেয়া কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন করেন।
তার ভাষায়, জামায়াতে ইসলামী নৈতিকতার প্রশ্নে কোনো আপস করে না। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত যথার্থ হয়েছে। আমরা সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









