প্রবাসী পরিবারের মৌরসি সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, জাল দলিল তৈরি এবং সম্পত্তির কেয়ারটেকারের স্ত্রী ও শিশুসন্তানের ওপর অ্যাসিড হামলার অভিযোগ তুলে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো. মুসা খান শিমুল।
রবিবার (২৬ জুলাই) সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে মুসা খান শিমুল বলেন, ‘‘তারা সবাই প্রবাসে থেকে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। কিন্তু দেশে থাকা তাদের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের জন্য একটি ভূমি জালিয়াত চক্র দীর্ঘদিন ধরে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।’’
তিনি জানান, তিনি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোগলাবাজার থানার পাঠানপাড়া খান বাড়ির মৃত অ্যাডভোকেট আসলাম খানের সন্তান। পরিবারের সদস্যরা প্রবাসে থাকায় সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সঞ্জবপুর এলাকার মো. আব্দুর রহমানের ছেলে মো. এমরান মিয়াকে সম্পত্তির কেয়ারটেকার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মোগলাবাজার থানার গোটাটিকর মৌজায় থাকা তাদের প্রায় ৩৩৭ শতক জমির মধ্যে ১১৫ দশমিক ৫ শতক জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখলের চেষ্টা করছে একটি চক্র। এ চক্রের সদস্যরা জাল কাগজপত্রের ভিত্তিতে নামজারিও সম্পন্ন করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
মুসা খান শিমুল বলেন, ‘‘দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সিলেট ওই নামজারি বাতিলের আদেশ দেন। পরে প্রতিপক্ষ অতিরিক্ত কমিশনার (রাজস্ব) আদালতে রিভিশন আবেদন করলে ২০১৩ সালের ৬ জুন আগের আদেশ বহাল রাখা হয়। পরবর্তীতে ভূমি আপিল বোর্ডে করা মামলাটিও ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই নথিজাত হয়।’’
তিনি অভিযোগ করেন, আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হওয়ার পর প্রতিপক্ষ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বিশেষ করে জিয়াউর রহমান ও মাসুদ কাজীর বিরুদ্ধে কেয়ারটেকার এমরান মিয়ার স্ত্রী খাদিজা বেগম ও তার ১১ বছর বয়সী সন্তানের ওপর অ্যাসিড হামলার অভিযোগ তোলেন তিনি।
তার দাবি, গত ১৩ মে রাতে খাদিজা বেগম ও তার শিশুসন্তানের ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করা হয়। এতে খাদিজা বেগম গুরুতর দগ্ধ হন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার একটি পা কেটে ফেলতে হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় ১৪ মে মোগলাবাজার থানায় মামলা দায়ের করার পর প্রায় আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। অভিযুক্তরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং মামলা তুলে নিতে কেয়ারটেকার এমরান মিয়া ও তার পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মুসা খান শিমুলের অভিযোগ, গত ১৫ জুলাই অ্যাসিড হামলা মামলার ২ নম্বর আসামি রাসেল আহমদ ও তার সহযোগীরা ৬-৭ জনকে নিয়ে এমরান মিয়াকে মামলা তুলে নিয়ে সিলেট ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অ্যাসিড হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের পারিবারিক সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









