সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা-রক্তি ও পাটলাই নদী পথে বিআইডব্লিউটিএ ও টুল ট্যাক্সের নামে অতিরিক্ত চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ-ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ব্যবসায়ী শ্রমিক সমিতি ও নৌ-মালিক সমিতি।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।
যাদুকাটা ব্যবসায়ী শ্রমিক সমিতি ও নৌ-মালিক সমিতির আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন শেষে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
এরআগে, শনিবার (২৫ জুলাই) থেকে একই দাবিতে জামালগঞ্জ উপজেলার লালপুর স্টোন ক্রাসার মালিক ও শ্রমিক সমিতি সুরমা নদীতে সকল প্রকার মালামাল লোড-আনলোড বন্ধসহ নৌযান বন্ধে ও অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ-ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
নৌ-পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত নদী পাঠলাইয়ের কামালপুর এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ’র নামে প্রতি ফুট পাথরে ৫০ পয়সার বদলে ২ টাকা ৮০ পয়সা। একইস্থানে কোটগারি’র নাম ভাঙ্গিয়ে ৩০ পয়সার স্থলে ১ টাকা এবং একই কায়দায় যাদুকাটা নদীর ফাজিলপুর এলাকায় ৫০ পয়সার বদলে ২ টাকা ৮০ পয়সা। এছাড়াও টুল ট্যাক্স ও কালেকশনের নামে প্রতি ফুট বালুতে ৩০ পয়সার স্থলে ১ টাকা ৩০ পয়সা অতিরিক্ত টোল আদায় করা হয়। কোনো প্রকার ইজারা না থাকা সত্ত্বেও একই কয়দায় রক্তি নদীর মুখে ওই চাঁদাবাজ চক্রটি জোরপূর্বক প্রতি ফুট ২ টাকা আদায় করে। ওই চক্রটি জোরপূর্বক খালি নৌকা প্রবেশ করতেও ৩ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করছে। টোলের নামে অতিরিক্ত চাঁদাবাজির কারণে যাদুকাটা ও পাঠলাই নদীতে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে বন্ধের উপক্রম হয়েছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘ব্যবসায়ী ও নৌ-শ্রমিকরা যাদুকাটা ও পাঠলাই নদীর এসব অতিরিক্ত টোল আদায় ও চাঁদাবাজি বন্ধে গত একমাস ধরে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য, সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক ও তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একাধিকবার স্মারকলিপি ও অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) থেকে সকল নৌযান চলাচল ও মালামাল লোড-আনলোড বন্ধসহ অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।’’
বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘‘চাঁদাবাজ চক্রটি ওই দুই নদীর ৬টি স্থানে জোরপূর্বক বালু পাথর বোঝাই নৌকা থেকে সরকারী নির্ধারিত হারের চেয়ে ৩ গুণ বেশি টোল আদায় করছে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী টোল দিতে অস্বীকার করলে অনেক সময় নৌকা আটকিয়ে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের শারীরিক নির্যাতনসহ নৌকায় থাকা মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়।’’
যাদুকাটা ব্যবসায়ী-শ্রমিক সমিতি ও নৌ-মালিক সমিতি ও বালু পাথর লোড-আনলোড শ্রমিকদের দাবি চাঁদাবাজি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত নৌ-ধর্মঘট চলবে। যাদুকাটা ও পাঠলাই নদীতে কোনো মালামাল লোড-আনলোড ও নৌকা চলাচল করবে না।
এ সময় বক্তব্য রাখেন যাদুকাটা ব্যবসায়ী শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ হাকিকুল ইসলাম, নৌ-পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ সিদ্দিক মিয়া, সদস্য মুহাম্মাদ শামছুল হক, সদস্য মুবাশ্বির আলম হিমেল এবং স্টোন ক্রাসার মালিক সমিতির সদস্য নুরুদ্দিন প্রমুখ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









