বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে এবার মাধ্যমিক পর্যায়ে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ৯২ শতাংশ। তবে উপজেলার বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল বিশ্লেষণে সাফল্য ও ব্যর্থতার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান দেখা গেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৮০ শতাংশ ছাড়ালেও কয়েকটি বিদ্যালয়ে তা ৩০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সারিয়াকান্দির ২৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ হাজার ৪০৬ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৪৮৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০৭ জন। ফলে উপজেলায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ৯২ শতাংশ।
জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে এবারও সাফল্যের শীর্ষে রয়েছে সারিয়াকান্দি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২২৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৫২ জন। এর মধ্যে ২৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মথুরাপাড়া বি কে উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ১৭ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ এই ফল অর্জন করেছে। ১০টি করে জিপিএ-৫ নিয়ে যৌথভাবে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সারিয়াকান্দি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও ফুলবাড়ি গমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সাফল্যের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পাসের হারে রয়েছে বড় পার্থক্য। সারিয়াকান্দি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার প্রায় ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ। ফুলবাড়ি গমির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ হার ৮১ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে চালুয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার নেমে এসেছে প্রায় ২৪ দশমিক ০৬ শতাংশে। উপজেলার তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এটি সর্বনিম্ন। আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ের পাসের হার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
মাধ্যমিকের পাশাপাশি এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষাতেও সারিয়াকান্দিতে তুলনামূলক ভালো ফল হয়েছে। উপজেলার চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২৪৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৭২ জন। এ শাখায় পাসের হার ৭০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন। সর্বোচ্চ পাসের হার পাওয়া প্রতিষ্ঠানে এ হার ৭৬ দশমিক ১৯ শতাংশ।
ফলাফল প্রসঙ্গে সারিয়াকান্দি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘এবারের ফলাফলে তারা সন্তুষ্ট নন। তার মতে, ফ্যাসিস্ট আমলের শিক্ষাব্যবস্থার প্রভাব এবং লটারির মাধ্যমে ভর্তি হওয়া প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়াও ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।’’
জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে উপজেলার শীর্ষে থাকা সারিয়াকান্দি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাকী মো. জাকিউল আলম ডুয়েল বলেন, ‘‘গ্রামাঞ্চলের অনেক মেয়ে বাল্যবিয়ের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে না। এবারের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ বিবাহিত। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিদ্যালয়ের জিপিএ-৫-এর সাফল্য ধরে রাখতে ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।’’
সারিয়াকান্দি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় কুমার পাল বলেন, ‘‘বিভিন্ন কারণে গত বছরের তুলনায় এবার উপজেলার ফলাফল কিছুটা কমে থাকতে পারে। এর মধ্যে অভিভাবকদের অসচেতনতাও অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।’’
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, ‘‘উপজেলার অধিকাংশ চরাঞ্চলভিত্তিক বিদ্যালয়ে পাসের হার তুলনামূলক কম। এসব এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কম পাসের হার থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে ফল উন্নয়নে করণীয় নির্ধারণ করা হবে। সারিয়াকান্দি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের প্রতি আরও মনোযোগী করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









