গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মৃত্যুর পরও দাফনের জায়গা পাচ্ছেন না এক বৃদ্ধা। স্থানীয়দের মাধ্যমে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের কোনো সমাধান হয়নি। ফলে মরদেহ বাড়ির বারান্দায় রেখে রাতভর অপেক্ষা করতে হয়েছে স্বজনদের। শেষ পর্যন্ত বসতবাড়ির উঠানেই কবর খননের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে। মৃত ওই নারীর নাম শ্রী মেনোকা (৬০)। তিনি ওই গ্রামের গোপালের স্ত্রী।
স্বজনদের দাবি, গোপাল কয়েক দশক আগে আক্তাপাড়া গ্রামে এক শতাংশ জমি কিনে সেখানে ঘর নির্মাণ করে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। প্রায় এক বছর আগে প্রতিবেশী ছফর উদ্দিনের কাছ থেকে আরও এক শতাংশ জমি কেনেন তিনি। তবে মিউটেশন-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে জমিটি রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের দাবি, জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পর জমির মূল্য পরিশোধ করা হয়েছিল।
পরিবারের অভিযোগ, বর্তমানে ছফর উদ্দিন ওই জমি বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করছেন। এ কারণে মেনোকার মরদেহ ঘরের পাশে দাফনের জন্য জায়গা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে।
বুধবার রাত ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির বারান্দায় মরদেহ রেখে স্বজনেরা অপেক্ষা করছেন। ঘরের পাশে কবর খননে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তখনো দাফন সম্পন্ন হয়নি। এর আগে দুপুরের পর থেকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে কয়েক দফা সালিস বৈঠক হয়। তবে কোনো সমাধান হয়নি।
মেনোকার ভাই নিধারণ বলেন, ‘এক শতাংশ জমি কেনা হয়েছিল এই আশায় যে মারা গেলে ঘরের পাশে মাটি দেওয়া যাবে। কিন্তু এখন সেই আশাও পূরণ হচ্ছে না। কবর খনন করতে গেলে ছফর উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে বাধা দেন।
মেনোকার ছেলে সুনিল বলেন মায়ের মরদেহ নিয়ে আমরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। জনপ্রতিনিধি ও থানা-পুলিশের কাছে গিয়েও সমাধান পাইনি। শেষ পর্যন্ত বাড়ির উঠানেই কবর খননের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
তবে পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছফর উদ্দিন। তিনি বলেন, আমি কোনো জমি বিক্রি করিনি। কোনো টাকাপয়সাও নিইনি। আমার জমিতে তাঁকে দাফন করতে দেব না।
মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বলেন, ছফর উদ্দিনকে বিষয়টি নিয়ে অনেক বোঝানো হয়েছে। তবে তিনি কারও কথা না মানায় সালিসে সমাধান হয়নি এবং মরদেহ দাফন করা সম্ভব হয়নি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনদের আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









