বগুড়ার যমুনাতীরবর্তী দুই উপজেলা সারিয়াকান্দি ও ধুনটে গড়ে উঠছে দুটি নতুন নদীবন্দর। সরকারের গেজেট প্রকাশের পর ইতোমধ্যে সারিয়াকান্দির কালিতলা নৌঘাটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পল্টুন স্থাপন করা হয়েছে। পল্টুনে ‘সারিয়াকান্দি নদীবন্দর’ নাম অঙ্কিত হওয়ায় দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নদীবন্দর। অন্যদিকে ধুনট নদীবন্দর প্রতিষ্ঠার প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।
স্থানীয়দের আশা, দুই নদীবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে জামালপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নৌযোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনে নতুন গতি আসবে। একই সঙ্গে যমুনাকে ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
সারিয়াকান্দিতে দৃশ্যমান বন্দরের অবকাঠামো
যমুনার তীরে সারিয়াকান্দির কালিতলা নৌঘাট দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নৌযান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌরুট ব্যবহার করে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার মানুষ জামালপুরের মাদারগঞ্জ ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন।
সম্প্রতি কালিতলা ঘাটে বিআইডব্লিউটিএর পল্টুন পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের মধ্যে নদীবন্দর নিয়ে নতুন করে আশার সৃষ্টি হয়েছে। পল্টুনে নদীবন্দরের নাম লেখা থাকায় অনেকের কাছে এটি বন্দরের দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরুর প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সরকারি গেজেট অনুযায়ী, সারিয়াকান্দি নদীবন্দরের আওতায় যমুনার তীরবর্তী একাধিক ঘাট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নদীবন্দরটির উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় বিআইডব্লিউটিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ধুনটেও নতুন সম্ভাবনা
সারিয়াকান্দির পাশাপাশি যমুনাতীরবর্তী ধুনট উপজেলাকেও অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গেজেট প্রকাশের পর এখন চলছে বন্দরের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম। ধুনটের নদীপথও দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
স্থানীয়দের মতে, নদীবন্দর প্রতিষ্ঠা হলে ধুনটের সঙ্গে জামালপুরসহ আশপাশের এলাকার নৌযোগাযোগ আরও কার্যকর হবে। নদীপথে কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের সুযোগ বাড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবেন।
অর্থনীতিতে নতুন গতি আসার প্রত্যাশা
সংশ্লিষ্টদের মতে, নদীবন্দর দুটি শুধু যাত্রী পারাপারের কেন্দ্র হিসেবে নয়, পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। সড়কপথের তুলনায় নদীপথে বড় পরিমাণ পণ্য পরিবহনের সুযোগ থাকায় পরিবহন ব্যয় কমানো সম্ভব হতে পারে।
তবে নদীবন্দর দুটিকে কার্যকর করতে আধুনিক জেটি, যাত্রীছাউনি, পণ্য ওঠানামার ব্যবস্থা, নৌযানের নিরাপদ চলাচল, নাব্যতা রক্ষা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মতো অবকাঠামো নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
দীর্ঘদিনের দাবির পর সারিয়াকান্দি ও ধুনট নদীবন্দর হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা—দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন শেষ করে বন্দর দুটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা হবে। এতে যমুনার তীরবর্তী দুই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি বদলে যেতে পারে স্থানীয় অর্থনীতির চিত্রও।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









