মহাসড়কের বিভিন্ন বাস কাউন্টারের সামনে থেকে থ্রি-হুইলারে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বরিশাল থেকে ঢাকা ও অন্যান্য রুটে বন্ধ থাকা বাস চলাচল আড়াই ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টায় ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর আলোচনা ও মীমাংসার আশ্বাসে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রত্যাহার করা হয়।
এর আগে একই দিন দুপুর পৌনে ২টা থেকে বরিশাল নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ ১৪টি রুটে একযোগে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন সংক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। হঠাৎ বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল নিয়ে বাস শ্রমিক ও মাহিন্দ্রা চালকদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সোমবার সকালে শিমুলতলা এলাকায় যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মাহিন্দ্রা চালকরা সুসংগঠিত হয়ে বাস শ্রমিকদের ওপর চড়াও হয় এবং কয়েকটি বাস ভাঙচুর করে।
ঘটনার পরপরই সকালে প্রাথমিক প্রতিবাদ হিসেবে বরিশাল-বানারীপাড়া-স্বরূপকাঠি রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বানারীপাড়াগামী আরও কয়েকটি বাসে হামলার অভিযোগ উঠলে নথুল্লাবাদ টার্মিনাল থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা।
বাস শ্রমিক রবিউল ইসলাম বলেন, শিমুলতলা এলাকায় মাহিন্দ্রা চালকরা একজোট হয়ে আমাদের বাসে হামলা ও শ্রমিকদের মারধর করে। প্রথমে আমরা শান্ত ছিলাম। কিন্তু পরে বানারীপাড়াগামী প্রায় প্রতিটি বাসে হামলা চালানো হলে বাধ্য হয়েই আমরা বাস চলাচল বন্ধ করি।
বাসচালক আমজাদ জানান, সরকারি নির্দেশনানুযায়ী মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এগুলো অবাধে চলাচল করছে, যার ফলে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। বিকেল নাগাদ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দেওয়ায় জনস্বার্থে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, সকালে মাহিন্দ্রা চালকরা বানারীপাড়ায় সড়ক আটকে শ্রমিকদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে এবং বাসে হামলা চালায়। যাত্রী সাধারণের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে এবং প্রশাসনের সমঝোতা বৈঠকের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে আমরা বাস চলাচল পুনরায় শুরু করেছি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন। পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নথুল্লাবাদ টার্মিনাল এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









