বাংলার সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি আর সৈয়দপুরের ঐতিহাসিক চিনি মসজিদের স্থাপত্যে মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফরের অংশ হিসাবে স্ত্রী ডিয়ান ডাওকে সঙ্গে নিয়ে সৈয়দপুরে এসে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা, ঐতিহাসিক চিনি মসজিদ, ক্যাথলিক চার্চ ও রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন তিনি। সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তার স্ত্রী ডিয়ান ডাওসহ মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে নীলসাগর ট্রেনে করে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তাকে বহনকারী ট্রেনটি টেনে আনে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি লোকোমোটিভ। স্টেশনে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
সাংবাদিকদের ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়েতে এটিই তার জীবনের প্রথম ভ্রমণ। ট্রেনে ভ্রমণ করতে তিনি খুবই ভালোবাসেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ট্রেনে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে বাংলাদেশে এই ভ্রমণ তার কাছে বিশেষ বলে উল্লেখ করেন তিনি। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রেলওয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিগতভাবে যুক্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, এদিন ব্যবহৃত লোকোমোটিভটি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান প্রোগ্রেস রেলের তৈরি। বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে কাজ করছে এবং প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সেবা দিয়ে আসছে।

এরপর রাষ্ট্রদূত সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন করেন। সেখানে বাংলাদেশ রেলওয়ের পুরোনো ও আধুনিক প্রযুক্তি, লোকোমোটিভ ও যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি। কারখানায় তাঁকে স্বাগত জানান বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ।
রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান ও কর্মীরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পুরোনো লোকোমোটিভগুলোও দেখতে পেয়েছেন, যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের মানুষের সেবা দিয়ে আসছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত প্রযুক্তি, আমেরিকান কারিগরি দক্ষতা এবং বাংলাদেশের দক্ষ ও পরিশ্রমী জনশক্তির সমন্বয়ই এ অংশীদারত্বের মূল শক্তি। প্রোগ্রেস রেল, ওয়েবটেকসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।
সৈয়দপুরের ঐতিহাসিক চিনি মসজিদ পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত উত্তরবঙ্গের সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধতার কথা জানান। তিনি চিনি মসজিদের স্থাপত্যশৈলী ও সরু সরু মিনার দেখে মুগ্ধ হন এবং সৈয়দপুর সফরকে অত্যন্ত সফল ও আনন্দদায়ক বলে অভিহিত করেন।
সফরকালে তিনি সৈয়দপুরের ঐতিহাসিক ক্যাথলিক চার্চসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও পরিদর্শন করেন। এর আগে স্ত্রী ডিয়ান ডাওকে সঙ্গে নিয়ে সৈয়দপুরের লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘরও ঘুরে দেখেন তিনি।
এর আগে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান রেলওয়ে কর্মকর্তারা ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। এ সময় সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওহিদুন্নবী, সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজাসহ রেলওয়ে ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গী হিসেবে আরও ছিলেন মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা নিকোল ক্ল্যারিসা বেসনার্ড, সৈয়দ ফাইজুস সালেহিন এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ।
সৈয়দপুরের বিভিন্ন স্থাপনা ও রেলওয়ের ঐতিহ্য পরিদর্শন শেষে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তার। উত্তরবঙ্গ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি এখানকার মানুষের আতিথেয়তা ও পুরো সফরের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









