পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি এলাকায় বরাদ্দকৃত সার কালোবাজারিতে বিক্রির অভিযোগে এক ডিলারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। অভিযোগ উঠেছে, ৩৭ বস্তা ডিএপি সার অন্যত্র পাচারের সময় কৃষকরা তা আটক করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে গেছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের চারাবটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দোগাছির বিএডিসি সার ডিলার আসলাম শেখ কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত ৩৭ বস্তা ডিএপি সার কালোবাজারিতে বিক্রির উদ্দেশ্যে অন্যত্র পাঠাচ্ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে কৃষকরা সারবোঝাই চালানটি আটক করেন এবং সারগুলো নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান।
কৃষকদের অভিযোগ, আসলাম শেখ দীর্ঘদিন ধরে সার কালোবাজারিতে বিক্রি করে আসলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। শুধু তিনি নন, হাজিরহাট এলাকার আরও কয়েকজন ডিলারও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব সার কালোবাজারিতে বিক্রি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার পর ডিলার আসলাম শেখ সারগুলোর মূল্য উদ্ধারের জন্য স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তবে কৃষকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা কোনো অর্থ পরিশোধ করবেন না। বরং সার কালোবাজারির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট ডিলারের ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
কৃষকদের প্রশ্ন, সার আটক করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর যদি ডিলার সারের মূল্য উদ্ধারের চেষ্টা করেন, তাহলে সার বিক্রির বিষয়টি আগে থেকেই সংশ্লিষ্টদের জানা ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে পাবনা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাকিরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কৃষকদের প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









