চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্তমানে উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন ‘সার্বিক কৌশলগত অংশীদারত্বে’ রূপ নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিতে হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রেখে দেশের স্বার্থকে সবার আগে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন ‘সার্বিক কৌশলগত অংশীদারত্বে’ রূপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু চীন নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও যোগাযোগ জোরদার হচ্ছে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ রয়েছে। তবে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ। কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেই জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি উপেক্ষা করা হবে না।
ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় অভিযুক্ত শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে দেশে অসংখ্য মানুষ গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং বিপুল অর্থ লুটপাট হয়েছে।
ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পরিকল্পনা মেনে নেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেমন অন্য দেশ থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দেবে না, তেমনি ভারতও বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দেবে না, এটাই বাংলাদেশের প্রত্যাশা।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে সিলেটে আসেন হুমায়ুন কবির। তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে জুমার নামাজ আদায় করেন। পরে বিকেলে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









