সিলেটের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র ও দেশের অন্যতম বৃহত্তম কোয়ারি অঞ্চল জাফলং বিপুল অর্থনৈতিক যোগান দিলেও, এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। জাফলংয়ে প্রতিদিন আসা শত শত বালু ও পাথরীবাহী ট্রাকের জন্য কোনো স্থায়ী টার্মিনাল না থাকায় যত্রতত্র পার্কিং করা হচ্ছে। ফলে জাফলংয়ের মোহাম্মদপুর থেকে মামার বাজার পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধ ট্রাক পার্কিংয়ের কারণে দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা লেগেই থাকছে তীব্র যানজট। এতে পর্যটক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও মুমূর্ষু রোগীদের যাতায়াতে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও ট্রাক চালকরা দ্রুত একটি স্থায়ী ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, জাফলং ট্রাক চালক সমিতির কার্যালয়ের সামনে এবং এর সংলগ্ন বিভিন্ন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির সামনেই সবচেয়ে বেশি ট্রাক এলোমেলোভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় জনসাধারণের পাশাপাশি হাজার হাজার পর্যটক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, যাত্রীবাহী বাস এবং পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে, যার ফলে কয়েক মিনিটের পথ পার হতেই দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে।
এই জনভোগান্তি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থী ইয়ামিন বলেন, যানজটের কারণে আমরা সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারি না। বিশেষ করে পরীক্ষার দিনগুলোতে আমাদের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। পর্যটন এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এখানে প্রতিদিন যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, তা আমাদের পড়াশোনা ও যাতায়াতকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। আমরা অবিলম্বে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।
শাহরিয়ার ইমন নামে এক তরুণ বলেন, মোহাম্মদপুর আপ থেকে মামার বাজার পর্যন্ত সড়কের দুপাশ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ গাড়ি পার্কিংয়ের দখলে রয়েছে। সরকারি রাস্তা দখল করে প্রতিনিয়ত এভাবে গাড়ি রাখার কারণে সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে একদিকে যেমন স্বাভাবিক যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই এখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। কোনো বড় ধরনের বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কি প্রশাসন জেগে উঠবে না? সড়কটি অবৈধ দখলমুক্ত করে পথচারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
একই সুর শোনা গেল স্থানীয় বাসিন্দা রিপন আহমেদের কণ্ঠে। তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর থেকে মামার বাজার পর্যন্ত রাস্তাটি এখন ট্রাকের দখলে চলে গেছে। সাধারণ মানুষের হেঁটে চলার জায়গাটুকুও নেই। সবচেয়ে বিপদে পড়েন মুমূর্ষু রোগীরা। যানজটে অ্যাম্বুলেন্স আটকে থাকায় অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। জাফলং দেশের অর্থনীতিতে এত অবদান রাখছে, অথচ এখানে একটি ট্রাক টার্মিনাল কেন করা হচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।
এদিকে জনভোগান্তির কথা স্বীকার করে জাফলং ট্রাক চালক সমিতির সভাপতি সবেদ মিয়া বলেন, জাফলংয়ে বালু ও পাথর নেওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক আসে। স্থানীয় ট্রাকসহ এই সংখ্যা প্রায় হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। কিন্তু জাফলংয়ে কোনো নির্ধারিত ট্রাক টার্মিনাল না থাকায় চালকরা বাধ্য হয়ে রাস্তার দুই পাশে গাড়ি পার্কিং করেন। আমরা চালকদের সচেতন করার চেষ্টা করছি, কিন্তু স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই সংকট দূর করা সম্ভব নয়। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি যেন দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী ট্রাক টার্মিনালের ব্যবস্থা করা হয়।
যোগাযোগ করা হলে গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, জাফলংয়ে স্থায়ী ট্রাক টার্মিনাল না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, মুমূর্ষু রোগী ও পর্যটকদের যে ভোগান্তি হচ্ছে, সে বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে সৃষ্ট যানজট নিরসনে প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে। একটি স্থায়ী ট্রাক টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









