বগুড়ায় ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়ার জেরে ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুম (৩৭) নামের এক ফল ব্যবসায়ীকে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ।
হত্যার আগে ইন্টারনেটে চেতনানাশক ওষুধের নাম খুঁজে বের করেন অভিযুক্তরা। পরে কর্মস্থলে ডেকে নিয়ে কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য খাইয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নাজিম উদ্দিনকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া মামলার অপর আসামি মো. স্বপনকে (২৮) গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত ওয়াহেদ বগুড়া শহরের স্টেশন সড়কে বাবার সঙ্গে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থায় বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত নাজিম ও স্বপনের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন আগে ওয়াহেদ তাঁর মায়ের নামে ওই সংস্থা থেকে ৭ লাখ টাকা ঋণ নেন। সেই টাকা থেকে স্বপনকে দুই লাখ এবং নাজিমকে এক লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে সেই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, এই বিরোধের জেরে ওয়াহেদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন নাজিম ও স্বপন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট কৌশলে ওয়াহেদকে বগুড়া শহরের মালগ্রাম এলাকার ওই বেসরকারি সংস্থার কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে হত্যার আগে নাজিম তাঁর মুঠোফোনে ইন্টারনেটে অজ্ঞান করার ওষুধের নাম খোঁজেন। পরে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে তা ওয়াহেদকে পান করানো হয়। তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর রাতে মরদেহ একটি বস্তায় ভরে স্থানীয় মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি ধানখেতে ফেলে রাখা হয়। পরদিন ৮ আগস্ট সকালে নাজিম ও স্বপন তাঁদের কর্মক্ষেত্র থেকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। এদিকে ওয়াহেদ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাঁর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।
নিখোঁজের পাঁচ দিন পর গত ১২ আগস্ট ওই ধানখেত থেকে বস্তাবন্দী এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে পরিচয় না পাওয়ায় বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হলেও পরে স্বজনেরা নিহতের মরদেহ শনাক্ত করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের মুঠোফোনের কল রেকর্ড ও যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করে নাজিম ও স্বপনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সোহেল হোসেন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, গ্রেপ্তার নাজিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান, রিমান্ডে থাকা নাজিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং অপর আসামি স্বপনকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









