পাবনার ফরিদপুরে সাকিবুল ইসলাম (১৩) নামের এক কিশোর অটোভ্যানচালককে হত্যা করে অটোভ্যান ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত ইমন হোসেনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তাকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী ছিনতাই হওয়া অটোভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।নিহত সাকিবুল ইসলাম উপজেলার রতনপুর গ্রামের হারিছ প্রামাণিকের ছেলে। অন্যদিকে গ্রেপ্তার ইমন হোসেন সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার কালিয়াকৈর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে। তিনি বর্তমানে ফরিদপুর উপজেলার দিঘুলিয়া গ্রামে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে অটোভ্যান নিয়ে যাত্রী পরিবহনের জন্য বাড়ি থেকে বের হয় কিশোর সাকিবুল। সে ডেমরা-ফরিদপুর সড়কে ভ্যান চালাত। তবে দুপুরের পর থেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে একই দিন বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ডেমরা ইউনিয়নের মাজাট গ্রামের উত্তর পাশে বড়াল নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, নিহতের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলে ভ্যানটি না থাকায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় রোববার রাতেই নিহতের বাবা হারিছ উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ফরিদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং প্রযুক্তি ও তথ্যের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ইমন হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার ধানুয়াঘাটা গ্রাম থেকে ছিনতাই হওয়া অটোভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল হাসান মাসুদ জানান, “তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।” ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









