লতিফা নিলুফার পাপড়ি সিলেট বিভাগের গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে কর্মরত। প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ অবদান ও অনন্য দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সিলেট বিভাগের গুণী শিক্ষক নির্বাচিন করা হয়।
সিলেট বিভাগ প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক এ কে এম সাইফুল হাসান স্বাক্ষরিত একপত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। আগামী ৫ অক্টোবর "বিশ্ব শিক্ষক দিবস" উদযাপনের প্রস্তুতি হিসেবে এই গুণী শিক্ষক নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সিলেট বিভাগের সকল জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জেলা পর্যায়ের গুণী শিক্ষকদের মূল্যায়ন করে লতিফা নিলুফার পাপড়িকে সিলেট বিভাগীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচন করা হয়।
দেশের আটটি বিভাগের নির্বাচিত গুণী শিক্ষকদের সাক্ষাৎকার পর্ব ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কেন্দীয় কার্যালয়ে জাতীয় সার্চ কমিটির কাছে ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবরের আগেই জাতীয়ভাবে গুণী শিক্ষকের নাম ঘোষণা করা হবে বলে অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।
লতিফা নিলুফার পাপড়ি দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসায়ই তিনি বিভাগীয় সেরা গুণী শিক্ষক হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে বলে মৌলভীবাজারের তাঁর সহকর্মীরা এমনই মনে করেন। একজন সফল শিক্ষাবিদ হওয়ার পাশাপাশি লতিফা নিলুফার পাপড়ির রয়েছে বহুমুখী সাহিত্যিক প্রতিভা। তিনি একাধারে একজন কবি, প্রাবন্ধিক ও কথাসাহিত্যিক। তাঁর বেশ কয়েকটি গ্রন্থ ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। সৃজনশীল লেখালেখির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সংবাদপত্রে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নিয়মিত কলাম লিখে থাকেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও গঠনমূলক লেখার মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে তাঁর একটি শক্ত অবস্থান রয়েছে।
লতিফা নিলুফার পাপড়ি তাঁর এই সাফল্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই স্বীকৃতিকে আমি আমার একান্ত অর্জন মনে করি না। আমার শিক্ষার্থী, সহকর্মী, অভিভাবক ও শিক্ষা পরিবারের ভালোবাসা, সহযোগিতা ও আস্থাই আমাকে প্রতিদিন আরও ভালোভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। বিশেষ করে আমার সহকারী শিক্ষকবৃন্দের সহযোগিতাই আমাকে এই স্বীকৃতির পথে এগিয়ে দিয়েছে।
আমি কৃতজ্ঞতা জানাই শিক্ষা পেশায় নিবেদিত থেকে অবসরে যাওয়া সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ আমার বাবা মোঃ মতিউর রহমান ও মা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফরিদা রহমানের প্রতি। তাদের শিক্ষকতা ও শিক্ষা প্রদানের ধরণ দেখেই আমি অন্য উচ্চপদের সরকারি চাকুরির সুযোগ পেয়েও শিশুদেরে গড়ে তোলার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই শিক্ষকতা পেশা গ্রহণ করেছিলাম। আমার এই অর্জনে আমার পরিবার , বন্ধু্ বান্ধব ও আমার সাথে পথচলা আমার সকল প্রিয় মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন আমাকে দেশের মনুষের কাছে আজ অন্যরকম পরিচিতি এনে দিয়েছে।
আমি এও বলি, আমি একা গুণী শিক্ষক নই; আপনাদের ভালোবাসাই আমাকে গুণী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত করেছে। এই সম্মান আমার অহংকার নয়, আরও বিনয়ী হয়ে যাতে আমি শিক্ষক পরিবারের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে পারি সে দায়িত্ব আমার উপর অর্পিত হয়েছে। আমি আমার আগামী পথ চলায় সকলের শুভ কামনা প্রত্যাশা করছি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









