ছাত্র-জনতার আন্দোলনকালে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ক্ষত এখনও শুকায়নি, তার ওপর যোগ হয়েছে নিজস্ব ঠিকানাহীনতার তীব্র সংকট। দীর্ঘ ২৫ মাস ধরে একটি ভাড়া বাসায় অত্যন্ত মানবেতর ও অস্থায়ীভাবে কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে চলছে বগুড়া রিজিয়নের আওতাধীন ও উত্তরবঙ্গের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার মূল দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
নিজস্ব স্থায়ী ভবন এবং কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় একদিকে যেমন পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের ব্যস্ততম মহাসড়কগুলোতে আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
অপর দিকে জানা গেছে, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক মানের মহাসড়ক সম্প্রসারণের স্বার্থে হাইওয়ে থানার পূর্বের নিজস্ব ভবন ও জমি অধিগ্রহণ করে সরকার। এরপর সাময়িকভাবে দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে নেওয়ার জন্য মাসিক ৬০ হাজার টাকা ভাড়ায় একটি আবাসিক ভবনে থানার যাবতীয় কাজকর্ম স্থানান্তর করা হয়।
চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ছিল—গণপূর্ত বিভাগ অতি দ্রুত বিকল্প সুবিধাজনক স্থানে থানার জন্য একটি আধুনিক নতুন ভবন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করে দেবে। কিন্তু দেখতে দেখতে দীর্ঘ ২৫টি মাস পার হয়ে গেলেও ভবন নির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গণপূর্ত বিভাগের এই চরম উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতায় একদিকে যেমন হাইওয়ে পুলিশের দাপ্তরিক কাজ এবং সদস্যদের আবাসন সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে, অন্যদিকে সার্বিকভাবে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে মহাসড়কের আইনি শৃঙ্খলা। নিজস্ব আবাসন সুবিধা না থাকায় বাধ্য হয়ে পুলিশ সদস্যরা চরম কষ্ট সহ্য করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা তাদের মনোবল ও কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
থানার প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, নিজস্ব কোনো ‘ডাম্পিং স্টেশন’ বা আইন অমান্যকারী ও জব্দকৃত যানবাহন নিরাপদ রাখার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় গত কয়েক মাস ধরে মহাসড়কে মামলা ও জোরদার অভিযানে অনেকটাই স্থবিরতা চলে এসেছে। ফিটনেসবিহীন, রুট পারমিটহীন ও অবৈধ যানবাহন আটক করলেও তা কোথায় রাখা হবে—এই চিন্তায় নিয়মিত আইনি ব্যবস্থা নিতে চরম হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ।
ফলে বিগত বছরগুলোর তুলনায় ব্যস্ততম এই মহাসড়কে মামলা, জরিমানা ও অবৈধ যানবাহন আটকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে মহাসড়কে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, যা প্রতিনিয়ত মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
স্থানীয় পরিবহন মালিক, চালক ও সচেতন সমাজ জানান, উওর ও দক্ষিন বঙ্গের প্রায় ২২ টি জেলার প্রবেশদ্বারখ্যাত হাটিকুমরুল গোলচত্বর দিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে।
এ বিষয়ে স্থানীয় পরিবহন নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গণপূর্ত বিভাগের খামখেয়ালিপনা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়ে থানা আজ পঙ্গু হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে এই উদাসীনতা পরিহার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিজস্ব জমিতে আধুনিক ভবন ও ডাম্পিং সুবিধাসহ হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার সার্বিক কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর জোরালো দাবি জানাচ্ছি।”
এবিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবর রহমান বলেন, আমার সরকারি ভাবে আবাসিক ভবনের থানার কার্যক্রম বাবদ ভাড়া দেই মাসে ৬০ হাজার টাকা হবে অতি দূরত্ব যদি গণপূর্ত বিভাগ নির্মাণ কাজ শুরু করে সেক্ষেত্রে এই ভাড়ার সরকারি অর্থ সরকারের কাছে থেকে যাবে বলে আমি মনে করি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









