নদীভাঙন থেকে বসতভিটা, ফসলি জমি ও জনপদ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন চান নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নদীতীরবর্তী মানুষ। মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে বসতভিটা ও আবাদি জমি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে তাঁদের। আগামী বর্ষার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নলচিরা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার উপজেলার নলচিরা ইউনিয়নের তুফানিয়া গ্রামে মেঘনা নদীর তীরে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়। নিজেদের ভিটেমাটি ও জনপদ রক্ষার দাবিতে ইউনিয়নের নয়টি গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক নারী-পুরুষ এতে অংশ নেন। তাঁদের প্রধান দাবি, দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদীভাঙন রোধে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নির্বাচনের আগে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাতিয়ার নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন চান তাঁরা। নদীতীরবর্তী মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, মেঘনার ভাঙন হাতিয়ার মানুষের কাছে নতুন কোনো দুর্যোগ নয়। বছরের পর বছর নদীর সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হচ্ছে তাঁদের। নদীর পানি বাড়লে কিংবা ভাঙন তীব্র হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। কখন বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যায়, সেই আতঙ্কে দিন পার করেন নদীতীরের বাসিন্দারা। অনেকের কাছে ভিটেমাটিই শেষ সম্বল। সেটুকু হারালে নতুন করে জীবন শুরু করার সামর্থ্যও তাঁদের থাকে না।
বিশেষ করে হাতিয়ার উত্তরাঞ্চলের নলচিরা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম মারাত্মক ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। তাঁদের আশঙ্কা, আসন্ন বর্ষার আগে কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে ইউনিয়নের বড় একটি অংশ হুমকির মুখে পড়তে পারে। এতে ঘরবাড়ির পাশাপাশি রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও এলাকার সামাজিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাসিন্দারা বলেন, নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারানো মানে শুধু জমি হারানো নয়; এর সঙ্গে হারিয়ে যায় মানুষের স্মৃতি, জীবিকার অবলম্বন ও নিরাপদে বেঁচে থাকার আশ্রয়। নদীভাঙনের কারণে কোনো পরিবারকে যেন নিজের জন্মভূমি ছেড়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ছুটতে না হয়, সে জন্য এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তাঁরা বলেন, সাময়িক কিংবা অপরিকল্পিত কাজ দিয়ে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। নদীর গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিত ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষার দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য, মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ নলচিরা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা।
মানববন্ধন থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন, আগামী বর্ষার আগেই নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নলচিরা ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়।
নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। তাঁরা আর ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাতে চান না; চান নিরাপদ বসবাস, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং নিজের জন্মভূমিতে টিকে থাকার নিশ্চয়তা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









