পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হতে জালিয়াতির আশ্রয়ের অভিযোগ উঠেছে জনৈক কবির শাহ ফকির বিরুদ্ধে।এমনকি তিনি এমপিওভুক্ত হয়ে নিয়মিত বেতন-ভাতা নিয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসতে থাকে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এ নিয়ে তদন্ত করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর। এদিকে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে বেতন ভাতা স্থগিতের নির্দেশ দেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা কর্মকর্তা জিএম মুস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানা যায়, তিনি ২০১০ সালে মঠবাড়িয়ার উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় যোগদান করেন। যোগদানের পূর্বে তিনি ঝালকাঠির কুতুব নগর আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় জুনিয়র শিক্ষক, বেতন গ্রেড-১৬ হিসেবে ১৯৯০ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ৩৫৯৬৯০ ইনডেক্সে কর্মরত ছিলেন। তারপর তিনি বরিশাল বাবুগঞ্জের ঠাকুর মল্লিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে ২০০৬ সালে যোগদান করেন তবে এমপিওভুক্ত হতে পারেননি।পরবর্তীতে তিনি তথ্য গোপন করে উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০১০ সালে নিয়োগ পেয়েছেন। একইসঙ্গে পূর্বের ইনডেক্সে এমপিওভুক্ত হয়েছেন।
বেশ কয়েকবার অডিটে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে মাউশি অধিদপ্তরে শুনানী গ্রহণ করা হয়। শুনানীকালে তার দাখিলকৃত কাগজপত্র যাচাই পূর্বক দেখা যায়, সহকারী প্রধান শিক্ষক কবির শাহ ফকিরের চাকুরী বিরতি ০৪ (চার) বছরের অধিক হওয়ার পরও তিনি জুনিয়র শিক্ষকের ইনডেক্স ব্যবহার করে উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এমপিওভুক্ত হয়ে চাকরি করছেন যা বিধি সম্মত নয়।
সহকারী প্রধান শিক্ষক কবির শাহ ফকিকের নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কারণ দর্শানোর পত্র প্রেরণ করা হয়। কারণ দর্শানোর জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ এর ১৮.১ (৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক কবির শাহ ফকির (ইনডেক্স-৩৫৯৬৯০) এর বেতন-ভাতার সরকারি অংশ পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন।
উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নিজামুল করিম মিরাজ জানান, তিনি প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। বেশ কয়েকবার তাকে সুযোগ দেয়া হয়েছে। তারপরও তার কাগজপত্র সংশোধন হয়নি। পাশাপাশি তিনি নিয়মিত স্কুলে আসেন না।
এ ব্যাপারে সহকারী প্রধান শিক্ষক করিম শাহ ফকিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছি।কতিপয় শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মাউশি অধিদপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে । সঠিক যাচাই বাছাই না করেই আমার বিলটি বন্ধ করে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসা মো. ইদ্রিস আলী আযিযী জানান, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









