বিশিষ্ট কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, মাজারের কোনো বিষয়ে কারও আপত্তি থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সংশোধন করা যায়। কিন্তু মাজার ভাঙা ইসলামের চিন্তার মধ্যে পড়ে না। তাই মাজার ভাঙার বিরুদ্ধে সবাইকে দাঁড়াতে হবে, কারণ এর সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দগরীসার মোড়ে আধ্যাত্মিক সাধক পুরুষ আব্দুল কাদির শাহ (রহ.)-এর ৫৮তম স্মরণোৎসব ও বার্ষিক ওরসের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, কিছু গোষ্ঠী আছে যারা মনে করে ধর্মের ব্যাপারে বলার অধিকার একমাত্র তাদের। এর বাইরে আর কেউ কথা বলতে পারবে না। ফলে বিভিন্ন সময়ে মাজার ভাঙা হয়েছে, বাউলদের ওপর অত্যাচার হয়েছে। অনেক বাউলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। লালন সাঁইয়ের অনুসারীরাও এখনো কারাগারে আছেন। শুধু তাই নয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাধনার ধারা চিন্ময় প্রভুও এখনো কারাগারে আছেন। আর এসব হচ্ছে অন্যায়। এই অন্যায় থেকে সমাজকে মুক্ত হতে হবে, রাষ্ট্রকেও মুক্ত হতে হবে। এসব ছাড়া প্রীতি ও ভালোবাসায় সমাজকে নতুনভাবে গড়ে তোলা যাবে না। বরং নিজেদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে মাজার ভেঙে প্রমাণ করতে চাওয়া হচ্ছে যে, মাজার সব ধর্মবিরোধী।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের তথা মাজার, বাড়িঘর, রাষ্ট্রীয় সম্পদসহ সবকিছু রক্ষা করা। মূলত আমরা এখনো এমন রাষ্ট্র গঠন করতে পারিনি, যে রাষ্ট্র মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারে। একজন ব্যক্তি মাজারে যাবেন নাকি অন্য কোথাও যাবেন, তা তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার। যখন রাষ্ট্র এই অধিকার রক্ষা করতে না পারে, তখন অবশ্যই রাষ্ট্রের বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









