বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ একটি ধানের গুদাম—চাল, ধান আর কৃষকের ঘামের গন্ধে ভরা। কিন্তু সেই গুদামের ভেতরেই চলছিল এক নীরব, গোপন বাণিজ্য। ধানের স্তূপের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল জ্বালানি তেলের মজুদ, যেন পরিকল্পিতভাবে আড়াল করা এক অবৈধ বাজার। অবশেষে সেই গোপন তৎপরতা ধরা পড়ে প্রশাসনের অভিযানে।
শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রকাশ পায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে একটি গুদাম থেকে উদ্ধার করা হয় আনুমানিক ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল, যার মধ্যে ছিল ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন।
অভিযানের সময় গুদামের মালিক হিসেবে অভিযুক্ত তবিবর রহমানকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে জ্বালানি তেলের ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। তবে প্রকাশ্যে কখনও তেল বিক্রির কথা স্বীকার করতেন না।
ঘটনার সূত্রপাত হয় স্থানীয়দের সন্দেহ থেকে। সকালে ধানের গুদামে কাজ করতে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিক ধানের নিচে একটি ড্রামে তেলের উপস্থিতি টের পান। বিষয়টি দ্রুত বাজারজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা প্রশাসনকে খবর দিলে বিকেলে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে প্রথমে একটি ড্রাম উদ্ধার হলেও, অনুসন্ধান বাড়ানোর পর একই গুদাম এবং পাশের আরেকটি গুদাম থেকে আরও তিনটি ড্রাম পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে চারটি প্লাস্টিকের ড্রামে রাখা এই তেলের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭০০ লিটার।
স্থানীয় যুবক মাহফুজ আলম জানান, তবিবর রহমানের সঙ্গে পাশের ধান ব্যবসায়ী গোবিন্দ দাসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই সুযোগেই গোবিন্দর ধানের আড়তটি ব্যবহার করা হতো তেল সংরক্ষণের গোপন জায়গা হিসেবে। এমনকি অনেক সময় খালি তেলের ব্যারেলও সেখানে রাখা হতো, যাতে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হয়।
তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে প্রকাশ্যে তেল না থাকলেও, গোপনে ক্রেতাদের কাছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা লিটার দরে পেট্রোল বিক্রি করতেন তবিবর। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছিলেন, আর একইসঙ্গে তৈরি হচ্ছিল একটি অপ্রকাশ্য কালোবাজার।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মাহির দায়ান আমিন জানান, জব্দকৃত তেলের সুনির্দিষ্ট পরিমাপ ঘটনাস্থলে করা সম্ভব হয়নি, তবে আনুমানিক পরিমাণ ৭০০ লিটার। এই তেল মনিরামপুর বাজারের একটি ফিলিং স্টেশনের মাধ্যমে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, অননুমোদিতভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









