বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ঘাট এলাকায় নোঙর করা একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে লঞ্চটিতে কোনো যাত্রী বা কর্মী উপস্থিত না থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া লঞ্চটির নাম এমভি মানিক-৪।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লঞ্চটি মঙ্গলবার রাতে মুন্সিগঞ্জ থেকে চরমোনাইয়ের বার্ষিক মাহফিলে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের নিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ভোররাতে যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে দেওয়ার পর লঞ্চটি চরমোনাই ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভাটার কারণে নদীর পানি দ্রুত কমে গেলে লঞ্চটির পেছনের অংশ ধীরে ধীরে কাদায় বসে যায়। এতে ভারসাম্য হারিয়ে একপর্যায়ে দুপুরের দিকে লঞ্চটি হেলে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ডুবে যায়।
লঞ্চ সংশ্লিষ্টদের ধারণা, যথাযথভাবে শক্ত করে নোঙর না করা এবং পানির স্তর দ্রুত কমে যাওয়াই এ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
যদিও এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে লঞ্চের ভেতরে থাকা মুসল্লিদের বেশ কিছু মালামাল পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
চরমোনাই মাহফিলের মিডিয়া সমন্বয়ক কেএম শরীয়াতুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার সময় লঞ্চে কেউ না থাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। তবে কিছু মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নৌযান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সঠিকভাবে নোঙর করা, পানির স্তরের পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় তদারকি জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









