ধর্মীয় মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও উৎসবমুখর পরিবেশে গোপালগঞ্জে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হচ্ছে। যিশু খ্রিষ্টের পুনরুত্থান দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জেলার বিভিন্ন গির্জায় উদযাপিত হচ্ছে এই উৎসব।
রোববার ভোরের প্রথম আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় প্রার্থনা। শহরের ঘোষেরচর ব্যাপটিস্ট চার্চে জেলার বিভিন্ন গির্জায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রবীণরা দলে দলে উপস্থিত হতে থাকেন। ভোর ৫টা থেকে শুরু হয় বিশেষ প্রভাতী প্রার্থনা।
চার্চের ফাদার পাস্টর জিবেস্তা গমেজের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ প্রার্থনায় ধর্মীয় সংগীত, স্তবগান ও বাইবেল পাঠের মধ্য দিয়ে যিশু খ্রিষ্টের আত্মত্যাগ ও পুনরুত্থান স্মরণ করা হয়। প্রার্থনার সময় চার্চ প্রাঙ্গণে ছিল এক শান্ত, গম্ভীর ও আবেগঘন পরিবেশ, যা অংশগ্রহণকারীদের হৃদয়ে আধ্যাত্মিক অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
প্রার্থনা শেষে চার্চ প্রাঙ্গণে শুরু হয় শুভেচ্ছা বিনিময়। একে অপরকে আলিঙ্গন, করমর্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন সবাই। শিশুদের কোলাহল, তরুণদের উচ্ছ্বাস এবং প্রবীণদের আন্তরিকতা মিলিয়ে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
এছাড়াও দিনটি উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে ছোট পরিসরে সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গান, আবৃত্তি ও ধর্মীয় পরিবেশনায় অংশ নেয় তারা। এতে উপস্থিতদের মাঝে বাড়তি আনন্দ যোগ হয়।
গোপালগঞ্জ খ্রিস্টান ফেলোশীপের সভাপতি স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ইস্টার শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি নতুন জীবন, ক্ষমা এবং মানবতার প্রতীক। যিশু খ্রিষ্টের পুনরুত্থান আমাদেরকে আশা ও ভালোবাসার পথ দেখায়।
মৌলভীপাড়া এলাকার বাসিন্দা সজল বিশ্বাস বলেন, প্রতি বছর আমরা এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করি। ভোরের প্রার্থনায় অংশ নিতে পারাটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। এই দিনটি আমাদের মনে শান্তি এনে দেয়।
চার্চে প্রার্থনায় অংশ নিতে আসা তরুণ জনি গোমেজ বলেন, “ইস্টার আমাদের জন্য নতুনভাবে শুরু করার অনুপ্রেরণা। আমরা সবাই মিলে প্রার্থনা করি, একে অপরের সঙ্গে ভালোবাসা ভাগাভাগি করি। এটাই এই দিনের সবচেয়ে বড় বিষয়।
প্রবীণ অংশগ্রহণকারী অ্যান্থনি রোজারিও বলেন, “বর্তমান সময়ে মানুষে মানুষে বিভাজন বাড়ছে। কিন্তু ইস্টার আমাদের শেখায় কীভাবে ক্ষমা করতে হয়, কীভাবে ভালোবাসতে হয়। এই বার্তাটা সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়া দরকার।
খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মতে, ইস্টার সানডে মানবজাতির জন্য আশার প্রতীক। যিশু খ্রিষ্টের পুনরুত্থান মানুষের জীবনে নতুন সম্ভাবনা ও আলোর বার্তা নিয়ে আসে।
ধর্মীয় ভিন্নতা ভুলে এই উৎসব যেন সকলের মাঝে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির চেতনা জাগিয়ে তোলে।
সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে গোপালগঞ্জে ইস্টার সানডে উদযাপিত হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









