অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো সংকীর্ণ করভিত্তি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ অনুসারে দেশের প্রত্যেক বাণিজ্যিক, শিক্ষা, এনজিওসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে ট্যাক্সের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং করদাতাদের মধ্যে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের লক্ষ্যে খুলনা বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে জিডিপির তুলনায় ট্যাক্স আদায় বাড়ছে না, যা একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য অপর্যাপ্ত। অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও করের বাইরে রয়েছে। বিশেষ করে অর্ধেকের বেশি এনজিও করজালের বাইরে। অনেক প্রতিষ্ঠানের একটি বড় অংশ কর ফাঁকি দিয়ে চলছে। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রয়োজনীয় আইন রয়েছে। ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ উদ্যোগ সফল করা সম্ভব হবে।
তিনি উন্নত দেশের উদাহরণ দিয়ে বলেন, তাদের যদি ১০ কোটি মানুষ থাকে, তাহলে তা ২০ কোটি চোখে পরিণত হয়—পুলিশের চোখ, পরিবেশ অধিদপ্তরের চোখ, রাজস্ব বোর্ডের চোখ। তাই রাজস্ব খাতে সেসব দেশের কোনো অসুবিধা হয় না। একটি রাষ্ট্রের তখনই উন্নতি সম্ভব, যখন প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্র নিয়ে সচেতনভাবে কথা বলবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে খুব সহজেই ঘরে বসে কর জমা দেওয়া যায়। আমরা নিজেরা ডিজিটাল হওয়ার চেষ্টা করছি এবং রাজস্ব আদায়ে অন্যান্য সকল ডিজিটাল সিস্টেমের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছি। এর ফলে কর জমা দিতে কেউ দুর্নীতির আশ্রয় নিতে পারবে না।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ নাজমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কাস্টমস নীতি ও আইসিটি) মুহাম্মদ মুবিনুল কবীর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (ভ্যাট নীতি) মো. আজিজুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর নীতি) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) আহসান হাবিব। স্বাগত বক্তব্য দেন কর অঞ্চল খুলনার কর কমিশনার মো. সারোয়ার হোসেন চৌধুরী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









