সিরাজগঞ্জ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগে রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। লাইন বিতরণ সূত্র বলছে, সরকারি জমিতে বিদ্যুৎ দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই বিদ্যুৎ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী অশীথ পোদ্দার জানান, আমরা কোনো কিছুই দেখি না, ছবি আর জাতীয় পরিচয় পত্র হলেই যেকোনো জায়গায় বিদ্যুৎ দিয়ে থাকি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা রেলওয়ে সরকারি কোনো জায়গার প্রতিষ্ঠানে আপত্তি থাকলে, ও জায়গায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেব।
এসময় নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে, সিরাজগঞ্জে অবৈধ স্থাপনা গড়তে সহায়তা করছে নেসকো?? প্রশ্ন করা হলে , তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেনি। এসময় ভিজ্যুয়াল বক্তব্য দিতে সাংবাদিকদের অসহযোগিতা করেন।
কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের নামে গোয়েন্দা সংস্থা অফিস দখল করে বিদ্যুৎ বিষয়ে জানতে চাইলে, এসময় তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, এখানে সবার আপত্তি দেখছি। জেলা প্রশাসক লিখিত বা মৌলিক ভাবে বললেই এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেব।
সূত্র বলছে, কোনো কাগজপত্র ছাড়াই, জেলা প্রশাসকের কোনো অনুমতি ছাড়াই সংশয় জেলা প্রশাসকের কর্মকর্তাই ক্লাবের নামে দখল করেছে সরকারি ভবন ও জায়গা। এমনিভাবে রেলওয়ের প্রায় ৪শ একর জমিও দখলে সহায়তা করেছে নেসকো।
এছাড়া শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ঝুপড়ি দোকান গড়তেও বিদ্যুৎ দিয়েও করছে সহায়তা। ক্রসবার-৩ এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও রেলওয়ে জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করেছে নেসকো।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের সদস্য নুরুল আমিন (ভিপি সেল) কে জেলা গোয়েন্দা সংস্থার অফিস, কিভাবে এই সরকারি সম্পত্তি আপনারা দখল পেলেন, আবার বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেন??? এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আওতায় বেশ কিছু দোকানপাট ছিল, এগুলোর জেলা প্রশাসক থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয় না, দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই চলছে। কর্মচারীদের সমিতির অফিস রুম একটা প্রয়োজন, বাকি রুম দখল বিদ্যুৎ সংযোগ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
ক্রসবার-৩ এলাকায় বসবাসকারী আব্দুস সামাদ জানান, এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও রেলওয়ে জায়গায় ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বিদ্যুৎ সংযোগ নিচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ রেলওয়ের প্রায় ৫ শ ৪৫ একর জায়গার মধ্যে ২ একর জায়গার রাজস্ব পায় মাত্র ২৫ লাখ টাকা। বিপরীতে প্রতি বছর ভূমি মন্ত্রণালয়কে এই জায়গা বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা খাজনা পরিশোধ করে।
এরমধ্যে ৪শ একর রেলওয়ের জায়গা অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। আর এগুলোতে অবৈধ স্থাপনা গড়তে সহায়তা করেছে নেসকো। নেসকো যদি বিদ্যুৎ সংযোগ না দিতো এখানে অবৈধ বসতি গড়ে উঠতো না।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, আমরা ক্রস বার-৩ এ বেশ কয়েকবার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছি, কিন্তু কাজের কাজ হয়না। প্রয়োজনে আবারো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









