নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়াতে যুবদল ও সেচ্ছাসেবক দল নেতা সহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে এওজবালিয়া ইউনিয়নের সাহেবের হাট বাজারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা। এতে ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, বাজার ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি কুচক্রী মহল গত সোমবার (৬ এপ্রিল) ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করতে সহায়তা করে। যা নিয়ে ইউনিয়ন জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাজীব আহমেদ জানান, গত রোববার (৫ এপ্রিল) রাত ৮ টার দিকে আমার বাবা (বিএনপি নেতা আবদুল মন্নান) ছোট বোনের জন্য গ্যাস সিলিন্ডার আনতে মেসার্স কাশেম কোম্পানির দোকানে যায়। পরে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম সরকার নির্ধারিত সাড়ে ১৭’শ টাকার জায়গায় ২২শ টাকা অতিরিক্ত মূল্য চাইলে তাদেরকে ক্যাশ মেমো দেয়ার অনুরোধ করেন তিনি। কিন্তু দোকান মালিক মাইন উদ্দিন রিপন ক্যাশ মেমো দিতে অপরাধগতা জানায়। এ নিয়ে আমার বাবার সাথে তাদের মতপার্থক্য দেখা দেয়। বিষয়টি দোকানের মালিক রিপন আমাকে অবহিত করলে আমরা নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে নিই। এরপর আমার বাবাকে খুঁজতে বাজারের জিরো পয়েেন্টে গেলে দোকানের ম্যানেজার আবদুর রহিম অযথা গায়ে পড়ে বিএনপির বিরুদ্ধে অশালীন কথা বার্তা শুরু করে ও গালমন্দ করতে থাকে।
বিষয়টি তাৎক্ষনিক খারাপ লাগায় স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী হেলাল নামের এক ব্যক্তিকে নিয়ে তাদের দোকানে যাই এবং দোকানের মালিক রিপনকে অবহিত করতে গেলে আমাদের মাঝে বাকবিতন্ডা হয়। এর একপর্যায়ে দোকানের ম্যানেজার হঠাৎ চেয়ার নিয়ে আমাদের গায়ের দিকে তেড়ে আসে এবং মারমুখো আচরণ করে। তখন আমাদের মাঝে একটি হাতাহাতির ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক জেলা যুবদলের এক শীর্ষ নেতার হস্তক্ষেপে ঘটনাটি মীমাংসার সময় নির্ধারণ হয়। কিন্তু তা অমান্য করেই মুহূর্তের মধ্যে দোকানের ম্যানেজার কিছু বহিরাগত লোকজন নিয়ে পুনরায় আমাদের দিকে তেড়ে আসে এবং লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। লাঠি দিয়ে আমাকে স্বজোরে আঘাতের চেষ্টা করলে দোকানের গ্লাস ভেঙে কাচের টুকরো পড়ে প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটর মাইন উদ্দিন রিপন, তার ভাই নাজিম উদ্দিন ও তাদের কর্মচারীর কিছুটা আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সামাজিক পর্যায়ে বিষয়টি মীমাংসা হওয়ার কথা থাকলেও পরদিন সোমবার একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় আমাদের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীকে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হয়।
সংবাদে উল্লেখ করা হয়, “আমি ও আমার কয়েকজন সহযোগী নাকি ১২ ফেব্রুয়ারির পর থেকে বিভিন্ন সময় কাশেম কোম্পানীর দোকান হতে ২ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে আসছি। চাঁদা না দেওয়ায় দোকানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করেছি। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’’ প্রকৃতপক্ষে তারাই আমাদের উদ্দেশ্য অতর্কিত হামলার চেষ্টা চালায়। যা তাদের দোকানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে জানা যাবে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল আমীন নুরু জানান, “অতিরিক্ত দামে গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয় করাকে কেন্দ্র করে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকদল নেতা রাজীব, ওয়ার্ড যুবদল নেতা মাসুদ রানা ও কামাল’সহ বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির যে ঘটনা উল্লেখ করে সংবাদ করা হয়েছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট। আমরা এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি”। তিনি বলেন, “ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের মানহানি হয়েছে। আশা রাখছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
এওজবালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন জানান, “এওজবালিয়া ইউনিয়নে আমরা এতো অত্যাচারিত-নির্যাতিত হয়েছি। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট কিংবা ১২ ফেব্রুয়ারী পরবর্তী সময়ে আমাদের ইউনিয়নে আ.লীগের নেতাকর্মী কিংবা সাধারণ মানুষদের নিকট চাঁদাবাজি, জমি দখল কিংবা লুটপাটের কোনো একটি ঘটনায় আমাদের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিল না এবং এটার প্রমাণও কেউ দিতে পারবে না। গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয় করা নিয়ে বাকবিতন্ডায় জেরে নিজে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এটাকে চাঁদাবাজি ও লুটপাটের ঘটনা আখ্যা দিয়ে সেসব ভুয়া সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এতে দলীয় মান ক্ষুন্ন হয়েছে। আমরা এটার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিচার দাবী করছি।”
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, সাহেবের হাট এলাকায় মারামারির একটি ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে সেদিন পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি ডা. বেলাল, সুধারাম থানা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন, এওজবালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের
সদস্য সচিব ইব্রাহিম খলিল, যুগ্ম আহবায়ক মামুনুর রশিদ, শাহাদাত সোহাগ, জাবেদ হোসেন, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এনামুল হক মামুন, সদর উপজেলা ছাত্রদল নেতা রেদোয়ানুল আবেদীন প্রণয়, সাহেবেরহাট বাজার ব্যবসায়ী সোহাগ, মহিউদ্দিন, মাওলানা কাদের সহ আরো অনেকে।
অভিযোগ ওঠে, মেসার্স কাশেম কোম্পানী প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটর মাইন উদ্দিন রিপন ও ম্যানেজার আবদুর রহিম যুবলীগের সাথে সম্পৃক্ত। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে তারা বিভিন্ন সময় প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। বর্তমানেও বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর ছত্রছায়ায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









