ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কৃতী সন্তান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী গত সোমবার (২০ এপ্রিল) যথাযোগ্য মর্যাদা ছাড়াই দায়সারাভাবে পালিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দিবসটি ঘিরে কোনো পূর্বঘোষণা বা সুসংগঠিত কর্মসূচি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঐদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হঠাৎ করে কামারখালীর সালামতপুর গ্রামে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগারে একটি মিলাদ মাহফিল আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল পুরো আয়োজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর এ দিনটি ঘিরে সকাল ৭টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয় এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা কিংবা বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। পাশাপাশি বিকেলে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। তবে চলতি বছরে এসব নিয়মিত আয়োজনের কোনো ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি, যা স্থানীয়দের হতাশ করেছে।
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগারের সহকারী লাইব্রেরিয়ান সাইদুর রহমান জানান, সোমবার সকাল থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কেউ উপস্থিত না হওয়ায় সকাল ৯টায় জাদুঘর খোলার সময় তারা নিজেরাই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফোনে বিকেলে মিলাদ মাহফিল আয়োজনের নির্দেশ দেন, যা পূর্বপরিকল্পনার অভাবকেই স্পষ্ট করে।
বিকেলের মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশনা জাহান এবং সভাপতিত্ব করেন কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী রাকিব হোসেন ইরান। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কার মোল্লা, শাহাদাত হোসেন সাবু, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আক্কাস আলী মৃধা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী এনামুল হক। অনুষ্ঠানে বীরশ্রেষ্ঠের বড় বোন জোহরা বেগম উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিতদের মাঝে জিলাপি বিতরণ করা হয়।
দিবসটি যথাযথভাবে পালিত না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে এমন অনিয়ম ও অবহেলা কেবল প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতিকেই তুলে ধরে।
এ বিষয়ে কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী রাকিব হোসেন ইরান দায় স্বীকার করে বলেন, দিবসটি তার স্মরণে না থাকায় এমনটি হয়েছে এবং পরে বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশনা জাহান বলেন, পূর্ববর্তী বছরের কর্মসূচি সম্পর্কে তাকে আগে থেকে অবহিত করা হয়নি। বিষয়টি জানার পরপরই তিনি স্মৃতি জাদুঘরে উপস্থিত হয়ে মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালনের আশ্বাস দেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









