পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ১০ নং হলতা গুলিশাখালী ইউনিয়নের উত্তর হালতা গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১৮ জন ডাকাতকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে এখন নিজেই চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তিনি এখনো কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা ও সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদার জানান, এক নারীর ওপর ডাকাত দলের নির্মম নির্যাতনের ঘটনা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তিনি বলেন, ডাকাতরা ওই নারীর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়, যা তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।
এরপরই তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, যেকোনো মূল্যে এসব অপরাধীদের পুলিশের কাছে ধরিয়ে নিজের সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সাহসিকতার সঙ্গে কাজ শুরু করেন জাহাঙ্গীর। দীর্ঘ প্রচেষ্টার মাধ্যমে একে একে ১৮ জন ডাকাতকে প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হন তিনি। তবে এর পর থেকেই তিনি ও তার পরিবার নানা হুমকি ও আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালে তৎকালীন পুলিশ সুপার জনসম্মুখে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আর্থিক কিংবা মানবিক সহায়তাও পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে থানায় জিডি করেছেন বলে জানান তিনি। বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদার।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখার পরও তিনি এখন রাষ্ট্রের কাছে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দাবি করছেন।
স্থানীয়দের মতে, অপরাধ দমনে সাহসী ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের যথাযথ নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা জরুরি।
থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, বিষয়টা তদন্ত করে তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









