বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও ভোগান্তির অবসান হতে যাচ্ছে। বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বুক চিরে নির্মিত এবং জনস্বার্থ পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত ‘শাহান-আরা পার্ক’ এর অবশিষ্টাংশ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে সিটি করপোরেশন।
বুধবার (১৩ মে) সকাল ১১টা থেকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
অভিযান চলাকালে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২২ সালের শুরুতে বরিশালের তৎকালীন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মহাসড়কের বাই-লেন ও সড়ক বিভাজক দখল করে তার মায়ের নামে এই পার্কটি নির্মাণ করেন। একটি ব্যস্ততম জাতীয় মহাসড়কের মাঝখানে পার্ক নির্মাণের এমন ‘উদ্ভট’ পরিকল্পনা সে সময় দেশজুড়ে বিস্ময় ও তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞ মহলের আপত্তি উপেক্ষা করেই পার্কটি চালু করা হলে চৌমাথা এলাকায় যানজট এক ভয়াবহ রূপ নেয়, যা নগরবাসীর জন্য প্রাত্যহিক ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিক্ষুব্ধ জনতা ও শিক্ষার্থীরা পার্কটির সিংহভাগ ভেঙে ফেলেছিল। তবে রাস্তার ওপর থাকা ধ্বংসাবশেষ ও অবশিষ্ট স্থাপনার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। আজ সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সড়কটি তার আদি ও প্রশস্ত রূপ ফিরে পেতে যাচ্ছে।
বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “সড়ক জনগণের চলাচলের জন্য, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রদর্শনের জন্য নয়। এই পার্কটি নির্মাণের ফলে চৌমাথা এলাকায় যে কৃত্রিম যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে আমরা পুরো এলাকাটি উন্মুক্ত করে দিচ্ছি। নগরবাসীর স্বস্তি ফেরানোই আমাদের অগ্রাধিকার।”
উপস্থিত স্থানীয়রা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এটি শুধু একটি উচ্ছেদ অভিযান নয় বরং সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরে পাওয়ার দিন।”
সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উচ্ছেদ পরবর্তী ধাপ হিসেবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হবে। এর ফলে বরিশাল নগরীর প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত চৌমাথা এলাকায় দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং যানবাহন চলাচলে গতি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









