ঈদ আসলে সবার জন্য সমান আনন্দের উৎসব নয়। শুধু ঈদের নামাজের সময় ধনী–গরিব সবাই একসঙ্গে কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে। কিন্তু সেই সময়ও দেখা যায় মসজিদের বাইরে অনেক মানুষ অপেক্ষা করছে— কেউ কিছু সাহায্য পাবে এই আশায়, কেউ ভিক্ষার জন্য। তাই বাস্তবে সেই সাম্যের চিত্রটি আমরা খুব একটা দেখি না। এই বৈষম্য আগে থেকেই ছিল, কিন্তু এখন তা অনেক বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে।
এই বৈষম্য মূলত আমাদের উন্নয়নের ধরন থেকে এসেছে। পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে উন্নয়ন ধারাবাহিকভাবে হয়েছে, তা মূলত পুঁজিবাদী ধাঁচের উন্নয়ন। এই ধরনের উন্নয়নে অল্প কিছু মানুষের উন্নতি হয় এবং তারা মুনাফা পায়, কিন্তু যারা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত—শ্রমজীবী মানুষের বড় অংশ—তারা বঞ্চিতই থেকে যায়। এই বৈষম্য সমাজের সর্বত্র দেখা যায়, আর ঈদের সময় তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভিক্ষার প্রসঙ্গ তো আছেই, পাশাপাশি পোশাক-পরিচ্ছদ, জীবনযাপন, চলাফেরা—সব ক্ষেত্রেই এই পার্থক্য চোখে পড়ে।
আমরা বাংলাদেশে যে স্বপ্ন দেখেছিলাম—মানুষে মানুষে অধিকার ও সুযোগের সাম্য প্রতিষ্ঠা—সেটা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। বরং বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে। উন্নয়ন যত বাড়ছে, বৈষম্যও তত বাড়ছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও জরিপেও এই বাস্তবতা উঠে আসে।
ঈদের আনন্দ একসময় অনেকটাই নির্ভর করত খাবারদাবারের উপর— নতুন খাবার, পুরোনো খাবারকে নতুনভাবে পাওয়া, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাওয়া এবং সামাজিকতা করা। এখনও খাওয়া-দাওয়া হয়, তবে আগের মতো ঘরে ঘরে রান্না করার প্রবণতা কমে গেছে। এখন অনেকেই রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনতে বেশি পছন্দ করে। একই সঙ্গে সামাজিকতাও কমে গেছে। আগে ঈদ উপলক্ষে মানুষ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যেত, কিংবা অপেক্ষা করত অতিথি আসবে বলে। এখন সেই সংস্কৃতি অনেকটাই কমে গেছে। পারিবারিক বা খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বাইরে তেমন সামাজিকতা দেখা যায় না।
এখন রেস্টুরেন্ট সংস্কৃতি অনেক বেশি জনপ্রিয়। ঘরে রান্না করার বদলে অনেকেই বাইরে খেতে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। আবার যারা আরও ধনী, তারা ঈদের সময় বিদেশ ভ্রমণে যায়। এটিও একটি নতুন প্রবণতা। অন্যদিকে পরিবারের ভেতরেও ধনী ও কম আয়ের সদস্যদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। যারা বিত্তবান হয়েছে, তাদের নতুন সামাজিক পরিমণ্ডল তৈরি হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় আপন ভাই-বোনদের সঙ্গেও আগের মতো সম্পর্ক থাকে না। আবার যারা সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তারাও অনেক সময় নিজেদের মধ্যেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে অসম ধনবণ্টন পারিবারিক সম্পর্ককেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
আসলে যেকোনো উৎসবই ধনীদের জন্য অনেক সময় বিলাসিতার উপলক্ষ হয়ে ওঠে। তারা এই সময়ের জন্য অপেক্ষা করে—ভালো পোশাক, উন্নত খাবার, কিংবা বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করে। কিন্তু এই উৎসব সবার জন্য একরকম নয়। কারও জন্য এটি বিলাসিতা, আর কারও জন্য এটি কিছু পাওয়ার আশা। গরিব মানুষ অনেক সময় আশা করে, ঈদের সময় হয়তো কিছু দান-খয়রাত পাবে।
আমাদের যে উন্নয়ন হচ্ছে তা মূলত পুঁজিবাদী উন্নয়নের ধারা। এই উন্নয়ন মুনাফাকেন্দ্রিক এবং এটি প্রায়ই বৈষম্য তৈরি করে। যারা মুনাফা করে তারা আরও বেশি মুনাফা করতে পারে, কিন্তু যারা শ্রম দিয়ে উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সচল রাখে তারা অনেক সময় বঞ্চিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, শ্রমিকরা ঈদের সময় বোনাসের দাবি করে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তা পায় না। অনেক শ্রমিক গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার আশা করে, কিন্তু আর্থিক সংকটে তা সম্ভব হয় না। তারা হয়তো পরিবারের জন্য কিছু উপহার কিনে নেওয়ার কথা ভাবে, কিন্তু দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে সেটিও সম্ভব হয় না।
আগে ঈদের সময় এতটা বৈষম্য চোখে পড়ত না। কারণ তখন আমরা এতটা অর্থনৈতিকভাবে উন্নত ছিলাম না। এখন উন্নতি হয়েছে, কিন্তু সেই সঙ্গে বৈষম্যও বেড়েছে। আগে ঈদের মধ্যে সামাজিকতা বেশি ছিল। আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে পার্থক্য এতটা তীব্র ছিল না, একে অপরের খোঁজখবর নেওয়ার প্রবণতা ছিল বেশি।
আরেকটি বিষয় ছিল বিনোদন। আমরা যখন পুরান ঢাকায় থাকতাম, তখন দেখতাম ঈদের সময় নতুন সিনেমা মুক্তি পেত। কিশোর-কিশোরীরা সেই সিনেমা দেখার জন্য অপেক্ষা করত। ঈদের দিন সিনেমা হলে যাওয়া ছিল এক ধরনের আনন্দের অংশ। এখন সেই সংস্কৃতিও প্রায় হারিয়ে গেছে, কারণ অনেক সিনেমা হলই আর নেই।
ধনী মানুষের ঈদের আনন্দ আগের চেয়ে বেড়েছে, আর গরিব মানুষের আনন্দ অনেক ক্ষেত্রে কমে গেছে। ধনী ও দরিদ্র—দুই পক্ষকে একসঙ্গে বিবেচনা করলে বলা যায়, ঈদের সামগ্রিক আনন্দ আগের তুলনায় কমে গেছে। এখন ঈদের মধ্যে অনেক সময় প্রদর্শনের প্রবণতাও দেখা যায়—কে কী পোশাক পরল, কোথায় ঘুরতে গেল, কতটা ব্যয় করল—এসব বিষয় গুরুত্ব পায়। কিন্তু ঈদের আনন্দ মূলত সামাজিক হওয়ার কথা। মানুষের মধ্যে সম্পর্ক ও সংযোগ বাড়ানোর কথা। সেই সামাজিকতা আজ অনেকটাই কমে গেছে—এটা সত্য।
সমাজ যদি বদলায়, যদি মানুষের মধ্যে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যদি ধনবৈষম্য কমে এবং মানুষের আয় তুলনামূলকভাবে সমান হয়—তবেই উৎসবের প্রকৃত চরিত্র বদলাতে পারে। অর্থাৎ ঈদের আনন্দ সবার জন্য সমানভাবে উপলব্ধ হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে কি না তার উপর।
ঈদের আনন্দ নিয়ে আমরা প্রায়ই একটি পরিচিত কথা শুনি—“ঈদ সবার জন্য সমান আনন্দের।” কিন্তু বাস্তবতা কি সত্যিই এমন? সমাজের দিকে একটু গভীরভাবে তাকালেই বোঝা যায়, এই বাক্যটি অনেক সময় কেবল একটি সুন্দর কল্পনা, বাস্তবতার পূর্ণ প্রতিফলন নয়। ঈদ নিঃসন্দেহে একটি আনন্দের উৎসব, কিন্তু সেই আনন্দের মাত্রা ও অভিজ্ঞতা সমাজের সব মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছে না।
ঈদের দিন সকালে আমরা এক অসাধারণ দৃশ্য দেখি। ধনী, দরিদ্র, শ্রমিক, ব্যবসায়ী—সবাই একই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে। ইসলামের এই অনুশাসন যেন সাম্যের এক শক্তিশালী প্রতীক। কিন্তু নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাস্তবতার আরেকটি চিত্র সামনে আসে। মসজিদের বাইরে অপেক্ষা করে থাকে বহু মানুষ—কেউ সাহায্যের আশায়, কেউ ভিক্ষার জন্য। এই দৃশ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ধর্মীয় অনুশাসনে যে সাম্যের ধারণা আমরা দেখি, সামাজিক বাস্তবতায় তা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে আমরা আজ অনেক গর্ব করি। গত কয়েক দশকে অর্থনীতির আকার বেড়েছে, অবকাঠামো উন্নত হয়েছে, আয়ও বেড়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে আরেকটি সত্যও ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে—এই উন্নয়নের সুফল সমাজের সব মানুষের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রেই উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বৈষম্যও বেড়েছে।
আমাদের উন্নয়নের যে ধারা—পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পরও—তা মূলত পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যেই গড়ে উঠেছে। এই ধরনের উন্নয়নে সাধারণত অল্প কিছু মানুষ দ্রুত সম্পদ সঞ্চয়ের সুযোগ পায়, কিন্তু বৃহত্তর শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী সেই সুফল থেকে বঞ্চিত থাকে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যত বাড়ে, সম্পদের কেন্দ্রীকরণও তত বাড়তে থাকে।
এই বৈষম্যের চিত্র ঈদের সময় আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সমাজের এক অংশ ঈদের জন্য মাসখানেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করে—দামী পোশাক, বিশেষ খাবার, ভ্রমণ কিংবা নানা আয়োজন। অন্যদিকে আরেক অংশের মানুষের কাছে ঈদ মানে কেবল একটি নতুন কাপড়ের আশা, কিংবা পরিবারের জন্য সামান্য কিছু ভালো খাবারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা। কারও কাছে ঈদ বিলাসের সময়, কারও কাছে তা বেঁচে থাকার সংগ্রামের মধ্যেও সামান্য আনন্দ খুঁজে নেওয়ার উপলক্ষ।
একসময় ঈদের আনন্দের একটি বড় অংশ ছিল ঘরোয়া আয়োজন ও সামাজিকতার মধ্যে। পরিবারে বিশেষ রান্না হতো, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাওয়া-আসা চলত, অতিথিদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে উৎসবের আবহ তৈরি হতো। সেই সামাজিকতা ছিল ঈদের প্রাণ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। এখন অনেকেই ঘরে রান্না করার বদলে রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এতে সুবিধা থাকলেও উৎসবের পারিবারিক উষ্ণতা অনেক সময় কমে যায়।
সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। আগে ঈদের সময় আত্মীয়দের বাড়িতে যাওয়া ছিল প্রায় একটি সামাজিক নিয়মের মতো। এখন সেই সংস্কৃতি অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে। পারিবারিক বা খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছাড়া তেমন সামাজিকতা দেখা যায় না। এমনকি পরিবারের মধ্যেও অর্থনৈতিক বৈষম্য অনেক সময় সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি করছে।
পরিবারের ভেতরেই এখন দেখা যায়—কেউ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেছে, কেউ পিছিয়ে রয়েছে। যারা সম্পদ ও সুযোগের নাগাল পেয়েছে, তারা প্রায়ই নতুন সামাজিক পরিমণ্ডলে যুক্ত হয়ে যায়। অন্যদিকে যারা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তারা ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে অসম ধনবণ্টন শুধু অর্থনৈতিক ব্যবধান তৈরি করে না; এটি পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ককেও দুর্বল করে দেয়।
পুঁজিবাদী উন্নয়নের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো—এটি মুনাফাকেন্দ্রিক। যারা পুঁজি ও সম্পদের মালিক, তারা আরও বেশি মুনাফা করতে পারে। কিন্তু যারা শ্রম দিয়ে উৎপাদনের চাকা সচল রাখে, তারা সেই মুনাফার ন্যায্য অংশ থেকে প্রায়ই বঞ্চিত হয়। ঈদের সময় এই বাস্তবতা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। অনেক শ্রমিক ঈদ বোনাসের জন্য অপেক্ষা করে, কিন্তু তা সবসময় পায় না। অনেকেই গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে, কিন্তু আর্থিক সংকট বা কাজের বাধ্যবাধকতার কারণে যেতে পারে না। কেউ হয়তো পরিবারের জন্য ছোট একটি উপহার কিনতে চায়, কিন্তু দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সেই ইচ্ছাটিও অপূর্ণ থেকে যায়।
একসময় ঈদের সঙ্গে বিনোদনের একটি আলাদা মাত্রাও যুক্ত ছিল। শহরের সিনেমা হলগুলোতে ঈদ উপলক্ষে নতুন সিনেমা মুক্তি পেত, আর কিশোর-কিশোরীরা সেই সিনেমা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করত। এখন সেই সংস্কৃতিও প্রায় হারিয়ে গেছে। অনেক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে, আর মানুষের বিনোদনের ধরনও বদলে গেছে।
এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছে—ধনী মানুষের ঈদের আনন্দ আগের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রেই বেড়েছে, কিন্তু দরিদ্র মানুষের আনন্দ অনেক সময় কমে গেছে। দুই দিক একসঙ্গে বিবেচনা করলে মনে হয়, ঈদের সামাজিক আনন্দ আগের তুলনায় কিছুটা হলেও সংকুচিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে উৎসবের মধ্যেও এখন প্রদর্শনের প্রবণতা কাজ করে—কে কত ব্যয় করল, কোথায় ঘুরতে গেল, কী পরল—এসব বিষয় গুরুত্ব পায়।
কিন্তু ঈদের প্রকৃত অর্থ তো হওয়া উচিত ভিন্ন। এটি এমন একটি উৎসব, যা মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও সামাজিক সংযোগকে শক্তিশালী করার কথা বলে। ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে যায়।
সুতরাং প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত অর্থনীতির বা উৎসবের নয়, সমাজের চরিত্রের। সমাজে যদি সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যদি ধনবৈষম্য কমে, যদি মানুষের আয় ও সুযোগের মধ্যে তীব্র ব্যবধান না থাকে—তাহলেই উৎসবের আনন্দ সত্যিকার অর্থে সবার হয়ে উঠতে পারে। অন্যথায় ঈদ হয়তো থাকবে, উৎসবও হবে; কিন্তু সেই উৎসবের আনন্দ সমাজের সব মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছাবে না।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









