তীব্র গরম থেকে বাঁচতে অনেকেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে দিনের বড় অংশ পার করেন। ঘাম কম হওয়ায় দেহের পানি বেরিয়ে যাওয়ার হার কমে যায়, ফলে কমে তৃষ্ণার অনুভূতি। তাই ঠিকমতো পানি পান করেন না অনেকে। বুঝতেও পারেন না দেখা দিয়েছে পানিশূন্যতা। এই অবস্থাকে অনেক সময় ‘সাইলেন্ট ডিহাইড্রেশন’ বলা হয়। সাইলেন্ট ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ শুরুতে তেমন তীব্র না-ও হতে পারে।
মুখ বা গলা শুকিয়ে যাওয়া, প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া, স্বাভাবিকের তুলনায় কম প্রস্রাব হওয়া, মাথা ব্যথা, ক্লান্তি কিংবা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় এসি ঘরে থাকার পর বাইরে বের হলে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি অস্বস্তি বোধ হতে পারে, সেটিও সাইলেন্ট ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ। তবে মাথা ঘোরা, বমিভাব বা দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সেটি পানিশূন্যতার পাশাপাশি অন্য কারণেও হতে পারে। তাই এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
দিনে কতটা পানি প্রয়োজন
সবার পানির প্রয়োজন এক নয়। বয়স, শরীরের ওজন, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া, অসুস্থতা ও ওষুধের ওপর পানির প্রয়োজনীয়তা বদলে যায়। গরমের দিনে তাই নির্দিষ্টসংখ্যক গ্লাসের হিসাবের চেয়ে নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তৃষ্ণা পেলে অবশ্যই পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় এসি ঘরে কাজ করলে ডেস্কে পানির বোতল রাখা এবং কিছুক্ষণ পর পর অল্প পানি পান করা ভালো অভ্যাস হতে পারে। বাইরে গরমে যাতায়াত, শরীরচর্চা বা বেশি ঘাম হলে পানির প্রয়োজনও বাড়বে। ফল, শাক-সবজি, দুধ, চা বা অন্যান্য পানীয় থেকেও দেহের প্রয়োজন মেটে, শুধু পানি পান করেই ডিহাইড্রেশন কাটাতে হবে এমন নয়।
ইলেকট্রোলাইট কি সবার প্রয়োজন
এসি ঘরে বসে হালকা কাজ করলে ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক প্রয়োজন নেই; সঠিক নিয়মে খাবার ও পানি গ্রহণ করলেই চলবে। তবে দীর্ঘ সময় বাইরে গরমে কাজ করা, শরীরচর্চা করা বা কয়েক ঘণ্টা ধরে প্রচুর ঘাম হলে পানি ও লবণ দুটিই কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় উপকারী হতে পারে। ডায়রিয়া বা বমির কারণে বেশি পানি ও লবণ হারালে সাধারণ স্পোর্টস ড্রিংকের বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন বা ওআরএস গ্রহণ করা উচিত।
স্বাদে আনুন নতুনত্ব
শুধু পানি পান করতে ভালো না লাগলে পানিতে লেবু, শসা, পুদিনা বা ফলের ছোট টুকরা যোগ করা যেতে পারে। এতে পানির স্বাদ বাড়বে এবং নিয়মিত পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়া হবে সহজ। ডাবের পানিও একটি ভালো পানীয়। তবে সুস্থ একজন মানুষের প্রতিদিন ইলেকট্রোলাইটের জন্য আলাদাভাবে ডাবের পানি বা বিশেষ হাইড্রেশন ড্রিংক খেতেই হবে এমন ধরাবাঁধা কথা নেই।
লেখক: কনসালট্যান্ট
অরোরা স্পেশালাইজড হসপিটাল


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









